‘সন্ত্রাসী হামলার ছক’ মার্কিন কোস্ট গার্ড কর্মকর্তার

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৫

স্পিকার ন্যান্সি পেলোসিও তার টার্গেটে ছিলেন

বিবিসি

সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেফতার কোস্টগার্ডের এক কর্মকর্তার বাড়ি থেকে গুপ্ত অস্ত্র ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। ক্রিস্টোফার পল হাসন নামে ওই কর্মকর্তাকে অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে গত শুক্রবার গ্রেফতার করা হয়। গতকাল তাকে আদালতে হাজির করার কথা।

কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বঘোষিত এই শ্বেত জাতীয়তাবাদী যাদের হত্যা করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল, তাতে মার্কিন ডেমোক্র্যাট দলের বিশিষ্ট রাজনীতিকদের নামও আছে। নরওয়ের গণহত্যাকারী আন্দ্রেস ব্রেইভিকের কর্মকাণ্ডে হাসন অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে আদালতের নথিপত্রে বলা হয়েছে। আদালতের নথিতে ইউএস ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি রবার্ট হার বলেছেন, “বিবাদী ব্যাপক সংখ্যক বেসামরিককে হত্যা করতে চেয়েছিলেন, যেমনটি এই দেশে খুব কমই দেখা গেছে। “বিবাদী একজন গৃহ সন্ত্রাসী, সরকারি নিয়মনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মানব জীবন ঝুঁকিতে ফেলার মতো কিছু করতে চেয়েছিল সে।”

সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালের জুন থেকে লেখা এক খসড়া ই-মেইলে হাসন লিখেছেন, “এই পৃথিবীর শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত প্রত্যেককে হত্যা করতে একটি পথ বের করার স্বপ্ন দেখছি আমি। আমার মনে হয়, প্লেগই সবচেয়ে কার্যকরী হতো; কিন্তু কীভাবে আমি প্রয়োজনীয় স্প্যানিশ ফ্লু, খাদ্যে বিষক্রিয়া, অ্যানথ্রাক্স যোগাড় করতে পারি; নিশ্চিত না কিন্তু কিছু একটা পেয়ে যাবো।” যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী এই ব্যক্তি কোস্ট গার্ডের ওয়াশিংটন সদরদপ্তরে কর্মরত একজন লেফটেন্যান্ট এবং তিনি মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের উপ-শহর সিলভার স্প্রিংয়ে বসবাস করেন। ইউএস কোস্ট গার্ড তাদের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কিন্তু বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

অ্যাটর্নি দপ্তর জানিয়েছে, হাসনের বেসমেন্ট ফ্ল্যাট থেকে অবৈধ মাদকসহ ১৫টি বন্দুক ও এক হাজার রাউন্ডেরও বেশি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। যারা তার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিলেন তাদের মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি এবং সিনেটের সংখ্যালঘু ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতা চাক শুমার অন্যতম। আগ্নেয়াস্ত্র জড়ো করা ও লক্ষ্যের তালিকা তৈরি করার বিষয়ে হাসন ২০১৭ থেকে আন্দ্রেস ব্রেইভিকের একটি ইস্তাহারের বিভিন্ন অংশ অধ্যায়ন করছিল বলে অভিযোগ কৌঁসুলিদের।

২০১১ সালে ব্রেইভিক দুইটি সন্ত্রাসী হামলায় নরওয়েতে ৭৭ জনকে হত্যা করেছিল। এরমধ্যে রাজধানী ওসলোর কেন্দ্রস্থলে গাড়ি বোমা বিস্ফোরণে আট জন এবং একটি হ্রদের মধ্যবর্তী দ্বীপে গিয়ে লেবার পার্টির শিবিরে নির্বিচার গুলি চালিয়ে আরো ৬৯ জনকে হত্যা করেছিল। শেষোক্তদের অনেকেই কিশোর বয়সী ছিল।