করোনায় সীমিত স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ 

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৩৫

বাংলাদেশ মহান স্বাধীনতার ও বাঙালির চিরদিনের গৌরব মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করেছে ২০২১ সালে। আর এই বছরেই শেষ হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য ঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’। স্বাধীনতার ও বিজয়ের অর্ধশতবর্ষ এবং মুজিববর্ষ এমন এক সময়ে হয়েছে যখন সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে। এজন্য, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার ৫০ বছরের অনেক অনুষ্ঠান সীমিত করতে হয়েছে।

বিদায়ি বছরের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ উদ্যাপন করে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। ১০ দিন ধরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং সরকারঘোষিত ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন চলে রাজধানীতে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী এবং মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ২৬ মার্চ দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ উপলক্ষ্যে ১০ দিন ধরে ঢাকার প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা এসব অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ উদ্যাপন করেছে বিজয়ের ৫০ বছর। স্বাধীন বাংলাদেশের বয়স ৫০ বছর উপলক্ষ্যে গত ১৪ ডিসেম্বর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় আসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী, মুজিববর্ষের সমাপনী দিবস উদ্যাপন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফর করেন রামনাথ কোবিন্দ।

ভারতের রাষ্ট্রপতি ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের বিজয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে অংশ নেন। একই দিন বিকালে রামনাথ কোবিন্দ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বাংলাদেশের বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীর ঐতিহাসিক মুহূর্তে জাতির পিতার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, রক্তস্নাত বিজয়ের আবেগ ও আনন্দ উদ্যাপনের জন্য আয়োজিত ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের লক্ষ্যে সরকার ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬শে মার্চ সময়কে ‘মুজিববর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির কারণে মুজিববর্ষের জন্য নেওয়া কর্মসূচিগুলো নির্ধারিত সময়ে যথাযথভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সরকার মুজিববর্ষের সময় ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করে।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে ‘বিশেষ আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বর ‘বিশেষ আলোচনা’ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাব সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। 

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন