যে কারণে লোকসানের শঙ্কায় আলুচাষিরা

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২২, ১৫:৩২

গত বছর ভালো দাম পাওয়ায় এ বছরও লাভের আশায় আগাম আলু চাষে ঝুঁকেছিলো ঠাকুরগাঁওয়ের চাষিরা। কিন্তু এবার আলুর দাম কম থাকায় লোকসানে পড়েছেন জেলার চাষিরা। 
গত বছর চাষিরা প্রতি কেজি আলু মাঠেই বিক্রি করেছিল ২৫-২৮ টাকা দরে। এবার তা এক ধাক্কায় নেমে এসেছে ১০-১২ টাকায়। ফলে এবার তাদের লোকসান গুণতে হচ্ছে। 

জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক রবীন রায় বলেন, গতবারে যে পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছে এবারেও তেমনি আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু গত বার আলুর দাম পেলেও এবারে আলুর দাম আমাদের কপালে হাত ঠেকিয়েছে। সামনের দিনগুলো আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। 

আলু বিক্রি করা হচ্ছে।

সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের ভোপলা গ্রামের কৃষক মিঠুন বাবু বলেন,  বিঘায় আমাদের আলু উৎপাদন করতে খরচ হয় ২১-২২ হাজার টাকা। কিন্তু আমরা আলুর দাম পাচ্ছি গড়ে ১৮-১৯ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত আমরা আলু চাষে লোকসানের মধ্যে আছি।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক কৃষিবিদ আবু হোসেন বলেন, গত বছর জেলায় ২৮ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছিল ৭ লাখ ৪১ হাজার ২৯৭ মে. টন। এবারে জেলায় ২৬ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে আগাম আলুর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমির আলু উত্তোলন হয়েছে। এতে উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৫৮ মে.টন। হিসেব করলে দেখা যায় প্রতি বিঘায় আলু উৎপাদন হয়েছে গড়ে ৪৫-৪৮ মন। যা গতবারের তুলনায় সমান বলা চলে। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে চাষিরা প্রতি বিঘায় আলুর দাম পাচ্ছেন ১৮-১৯ হাজার টাকা। 

 

ইত্তেফাক/ইউবি