জামালপুর-গাইবান্ধা আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিয়ে যমুনার চরাঞ্চলে উত্তেজনা

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুর-গাইবান্ধা আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিয়ে জেলার ইসলামপুর উপজেলার যমুনার চরাঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইসলামপুরের বিরোধপূর্ণ ভূমিতে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলা তিনটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণসহ ইসলামপুরবাসীর বিস্তীর্ণ ফসলি জমির মাঠ জবর দখলের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, জেলার ইসলামপুর উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের চেঙ্গানিয়া, যোকনাই, প্রজাপতি মৌজা এবং গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার হলদে ইউনিয়নের চেঙ্গালিয়া, গারামারা ও দিঘলকান্দি মৌজাগুলো পাশাপাশি অবস্থিত। যমুনা নদী ভাঙনের গত প্রায় ৩০ বছর আগে এসব মৌজার সীমানা বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে যমুনার বুকে জেগে উঠা চরে সাঘাটা উপজেলার হলদে ইউনিয়নবাসী মৌজার সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ না করে ইসলামপুর উপজেলার চেঙ্গানিয়া, যোকনাই ও প্রজাপতি মৌজার প্রায় ১০ হাজার একর জমির বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ দখল করে নেয়। ওই সময় থেকেই জামালপুর-গাইবান্ধা আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিয়ে দুই জেলার সীমান্তবর্তী কৃষকদের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ইসলামপুরে সাপধরী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তইবর রহমান নামের একজন কৃষক জামালপুর ও গাইবান্ধা জেলার জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক দফা লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। অবশেষে কৃষক তইবর রহমান জামালপুর-গাইবান্ধা আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ১১/০১/২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি হাইকোর্ট কৃষক তইবর রহমানের পক্ষে রায় প্রদান করেন। এবং আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন। ফলে ভূমি রেকর্ড-জরিপ অধিদপ্তর এবং জামালপুুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার দুই জেলার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জামালপুর-গাইবান্ধা আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির জরিপ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কিন্তু আন্তঃজেলা সীমানা বিরোধ নিষ্পত্তির আগেই হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে বিরোধপূর্ণ ইসলামপুর উপজেলার ভূমিতে সাঘাটা উপজেলা কর্তৃপক্ষ হলদে ইউনিয়নে তিনটি গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চেঙ্গানিয়া, যোকনাই ও প্রজাপতি মৌজার কৃষক আর সাঘাটা উপজেলার চেঙ্গালিয়া, গারামারা ও দিঘলকান্দি মৌজার কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, এটি একটি জটিল কাজ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিষ্পত্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উজ্জ্বল কুমার ঘোষ জানান, জামালপুর-গাইবান্ধা জেলা সীমানার বিরোধপূর্ণ এলাকায় কোনো গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পায়নি। তবে চরাঞ্চলে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের ব্যাপারে যে সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে সেগুলো ভিত্তিহীন বলে জানান।