মনোহরগঞ্জে ৮৬ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৯

মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) সংবাদদাতা

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর স্মৃতিস্তম্ভ (শহীদ মিনার) নেই ৮৬টি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। স্বাধীনতার ৪৮ বছর বয়সেও তৈরি হয়নি ইতিহাসের ঐতিহ্য ধারণকারী শহীদ মিনার। প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিতে এ প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো কোনোটিতে কলাগাছের তৈরি প্রতিকৃতিতে অর্পণ করা হয় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন।

জানা যায়, উপজেলার ১১৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৭টি  ও ১৪টি মাদ্রাসার ৯টিতে শহীদ মিনার নেই। সরকারি নির্দেশনা থাকলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনারের অভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয় না।  কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই জানে না শহীদ মিনার তৈরির ইতিহাস। শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ে পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এর পঠন পাঠন কার্যক্রম, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। উপজেলা গঠনের ১৫ বছরেও প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার স্থাপনে প্রশাসনিকভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ২১শে ফেব্রুয়ারির তাত্পর্যকে বর্তমান-ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কাছে সহজেই তুলে ধরতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মইনুল ইসলাম জানান, শহীদ মিনার তৈরির জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম বানু শান্তি ইত্তেফাককে জানান, যে সকল প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই শীঘ্রই ওই  প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভটি স্থাপনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

নালিতাবাড়ীর অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই। ফলে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা জানতেও পারছে না সঠিক ইতিহাস। এমনও হচ্ছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয় দিবসগুলোতে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে বাড়িতে সময় কাটান। তারা কোনো প্রকার আলোচনা সভাও করেন না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১২১টি। এর মধ্যে ১২টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। অন্যগুলোতে কোনো শহীদ মিনার নেই। ৩৮টির মধ্যে ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। অন্যগুলোতে নেই। উপজেলার ২২টি মাদ্রাসার মধ্যে একটিতেও শহীদ মিনার নেই। ৭টি কলেজের মধ্যে ৩টিতে শহীদ মিনার আছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকায় জাতীয় দিবসগুলোতে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেন না শিক্ষার্থী-শিক্ষকবৃন্দ। কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ীভাবে কাঠ-বাঁশ কিংবা কলাগাছ দিয়ে প্রতিকী শহীদ মিনার তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, শহীদ মিনার নির্মাণ করার জন্য সরকারিভাবে কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণ করা যাচ্ছে না।