রংপুর অফিস
দেশের উত্তরবঙ্গের অন্যতম চিকিত্সা কেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের (ফায়ার এক্সটিংগুইশার) রাসায়নিকের মেয়াদ এক বছরের আগে শেষ হলেও এ বিষয়ে জানেন না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অপর দিকে বিদ্যুতের বহু পুরনো ওয়্যারিং ব্যবস্থায় চলছে ভারী যন্ত্রপাতি। অগ্নিনির্বাপণে ফায়ার অ্যালার্মসহ আর যেসব অবকাঠামোর দরকার সেগুলোরও কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রমেক।
এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি রোগী চিকিত্সা নিতে আসেন এবং অবস্থান করেন। চিকিত্সকসহ স্টাফ রয়েছেন সহস্রাধিক। পাশাপাশি প্রতিদিন পাঁচ থেকে সাত হাজার মানুষ নানা প্রয়োজনে হাসপাতালে আসেন। এমন একটি হাসপাতালে অগ্নিদুর্ঘটনায় একমাত্র ভরসা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রগুলোর রাসায়নিক মেয়াদোত্তীর্ণ। প্রায় ৫০ বছরের পুরনো হাসপাতাল ভবনের অধিকাংশ বৈদ্যুতিক তার সংস্কার না করে ব্যবহার করা হচ্ছে পাঁচ শতাধিক এসি (এয়ারকন্ডিশনার) ও ভারী চিকিত্সা যন্ত্রপাতি। ওভারলোড অথবা শর্ট সার্কিটে যেকোনো সময় আগুন ধরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিজ্ঞজন মনে করেন।
হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন কক্ষের প্রবেশদ্বারে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র। মেয়াদ লেখা আছে ২০১৭ সাল। অনেক কক্ষে কোনো অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রই নেই।
হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণের রাসায়নিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান রংপুর ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্টের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ জানান, রমেকে দুই শতাধিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু এক বছরের বেশি আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। হাসপাতালে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু বাজেট না পাওয়ায় রাসায়নিক নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. ইউনুস আলী জানান, রমেক হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জলাধার নির্মাণ, ফায়ার অ্যালার্ম যন্ত্র স্থাপনসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হলেও কাজ হয়নি।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় কুমার রায় বলেন, হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ড রোধে আধুনিক সরঞ্জামের সংকট আছে। হাসপাতালে বিদ্যুিনর্ভর চিকিত্সা সরঞ্জাম, এসিসহ বিভিন্ন কারণে বিদ্যুতের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পুরনো বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ শর্ট সার্কিট। এ ঝুঁকি এড়াতে পুরনো তার পরিবর্তনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের রাসায়নিকের মেয়াদ এক বছর আগে শেষ হওয়ার ব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রে ব্যবহূত রাসায়নিকের মেয়াদ যে শেষ হয়েছে, তা কেউ তাকে জানায়নি।
ঝিনাইদহের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে
নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ জেলা ও উপজেলা শহরের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ম থাকলেও নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আগুন লাগলে তাদের নির্ভর করতে হয় ফায়ার ব্রিগেডের উপর। অথচ মাত্র দেড় হাজার টাকা দিয়ে একটি ফায়ার ইস্টিংগুইসার কিনে দোকানে রাখলে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানো সম্ভব বলে ফায়ার ব্রিগেডের স্থানীয় কর্মকর্তরা জানান।
ঝিনাইদহ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা দীলিপ কুমার সরকার বলেন, ঝিনাইদহ শহরের মার্কেটগুলোর ভিতরে ঢোকার রাস্তা সরু। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়ি ঢোকে না। এছাড়া শহরের ভেতর পুকুর জলাশয়ও নেই। ফায়ার ব্রিগেডের গাড়িতে ৪৩শ লিটার পানি থাকে। এ পানি দিয়ে ২০ মিনিট আগুন নিভানো যায়। এরপর স্টেশনে ফিরে এসে ফের পানি ভরে নিয়ে যেতে হয়। তিনি জানান, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালেও অগ্নি নির্বাপণের ব্যবস্থা নেই।
ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলী সড়কের ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া বলেন, মার্কেটের মালিক আগুন নেভানোর ব্যবস্থা রাখেননি। দোকানগুলোতেও ফায়ার ইস্টিংগুইসার নেই।
ঝিনাইদহ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম মন্টু বলেন, প্রত্যেকটি দোকানে ফায়ার ইস্টিংগুইসার রাখার ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হবে।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন, শহরের বিভিন্ন দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা রাখতে বাধ্য করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
