সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক নারীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন আমানুল্লাহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রবিবার নিহতের শাশুড়ি বিল্ব বালা দাসকে (৪৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তালা উপজেলার আটারই গ্রামের সূর্যকান্ত দাস জানান, তার মেয়ে শিপ্রা দাসের সঙ্গে পাঁচ বছর আগে আমানুল্লাহপুর গ্রামের অনিল দাসের ছেলে ভ্যানচালক গোবিন্দ দাসের বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের চার বছর ও দুবছর বয়সের দুটি মেয়ে আছে। বিয়ে পর থেকে যৌতুকের দাবিতে গোবিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা শিপ্রার উপর নির্যাতন চালাতো। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস হয়েছে কয়েকবার। এরপরও নির্যাতন বন্ধ না হওয়ায় শিপ্রা বাদী হয়ে ২০১৯ সালে সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়। অবস্থা বেগতিক বুঝে জামাতা গোবিন্দ ও তার পরিবারের স্বজনরা কুমিরা ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে পরিষদে শালিসের মাধ্যমে মুচলেকা দিয়ে শিপ্রাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সেখান থেকে শিপ্রাকে আর বাপের বাড়িতে আসতে দেয়নি গোবিন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা। জ্যাঠামহাশয় নন্দ দুলাল দাস ছয় মাস আগে মারা গেলেও শিপ্রাকে আসতে দেওয়া হয়নি।
সূর্যকান্ত দাস আরও জানান, শনিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে শিপ্রার গলায় ও মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দিয়ে নির্যাতন করা হয়। কোনোভাবে সে মুখ খেকে কাপড় সরিয়ে তাকে (বাবা) ফোন দেয়। ফোন রিসিভ না হওয়ায় ছোট বোন রেখাকে তার উপর নির্যাতনের কথা জানায়। একপর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দর এক প্রতিবেশীর ফোন পেয়ে দুপুরে ১২টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শিপ্রাকে বারান্দার উপর মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন বাবা। এ সময় তার গলা ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এদিকে গোবিন্দ, তার বাবা অনিল দাস ও ভাই মান্দার দাস পালিয়ে যায়। তবে পুলিশ গোবিন্দ দাসের মা বিল্ব বালা দাসকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে শিপ্রার লাশ পাটকেলঘাটা শ্মশানে দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গোবিন্দ দাসের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাঞ্চন কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় শিপ্রার বাবা সূর্যকান্ত দাস বাদী হয়ে শিপ্রার স্বামী গোবিন্দ দাস, শ্বশুর অনিল দাস, শাশুড়ি বিল্ব বালা দাস, দেবর মান্দার দাসের নাম উল্লেখ করে রবিবার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইতোমধ্যে বিল্ব বালা দাসকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শিপ্রার লাশ পাটকেলঘাটা শ্মশানে দাফন করা হয়েছে।
