ইসলামে বই পড়ার তাগিদ

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:০৩

   মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

 

বই পড়ে মানুষ জ্ঞান অর্জন করে। আর ইসলামে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য। পবিত্র কোরআনের প্রথম নাযিলকৃত আয়াতই হলো, পড়ো, তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ো এবং তোমার প্রভু সুন্দরতম, যিনি কলমের (ব্যবহার) শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না (সুরাআলাক ১-৫ নং আয়াত)। জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ যিনি জানেন না, তিনি ভুল করবেন। তার আমল শুদ্ধ কমই হবে। নবী করীম (স) বলেছেন, যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সহজ করে দেন (মুসলিম ২৬৯৯)। অন্য এক হাদীসে নবী করীম (স) বলেছেন, যে ইলম অনুসন্ধানে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে (তিরমিজি ২৬৪৭)। জ্ঞান অর্জনের বিভিন্ন মাধ্যম আছে। সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো বই পড়া। প্রশ্ন হলো এই বইটা কিসের হবে। দুনিয়া বিনা কোরআন হাদীস বিষয়ক ইসলামি পুস্তক। তবে দুনিয়ার যা কিছু ভালো, সে বিষয়ে জ্ঞান অর্জনে দোষ নেই। যেমন-চিকিত্সা বিষয়ক বই। গল্প, উপন্যাসও যদি ভালো কাহিনি হয়। নৈতিক শিক্ষা থাকে। তবে সব কিছু হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লোক দেখানো হলে সব বরবাদ হবে। মানুষ বলবে, আমি খুব জ্ঞানী। বাহবা দিবে। এমন উদ্দেশ্য থাকলে তার পরিণতি জাহান্নাম। হাদিস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এলম শিখল, যা কেবল আল্লাহর জন্যই শেখা হয়, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না (আবু দাউদ ৩৬৬৪)। জ্ঞান অর্জন শুধু পুরুষ করবে। তাও নয়। নারী-পুরুষ সকলকে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। ইসলামে এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই।

বর্তমানে বই মেলা চলছে। পরিবার নিয়ে সেখানে যাওয়া যায়। কারণ সেখানে কোরআন, হাদীস নিয়ে বইয়ের বিপুল সমারোহও আছে।

lলেখক :ইসলামী গবেষক ও বেসরকারি চাকরিজীবী

 

 

০