কিউই বোলারদের বিপক্ষে যেভাবে খেলে সফল জয়

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:০৪

ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে যথাক্রমে ০ ও ৬ রান করেছিলেন। এর পরই অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন জাতীয় দলে এসে আরও এক তরুণ ক্রিকেটার ঝড়ে পড়ার অপেক্ষায়। তবে সমালোচকদের ধারণাকে যেন নিজের দ্বিতীয় টেস্টেই ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধ কন্ডিশনে তাদের বিশ্বসেরা পেস বোলিং লাইনআপের সামনে বুক চিতিয়ে লড়ে গেছেন। জানান দিয়েছেন, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে ২২৮ বল মোকাবিলায় করেছেন ৭৮ রান। এতে চারের মার ছিল মাত্র ৭টি। তার এই উইলোর ওপর ভর করেই এখন মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্ট জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিন (৩ জানুয়ারি) শেষে বাংলাদেশের দিকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশি।

দিন শেষ এক ভিডিও বার্তায় মাহমুদুল হাসান জয় জানিয়েছেন তার সাফল্যের কৌশল। বলেছেন কীভাবে কিউইদের বিশ্বসেরা বোলিং লাইনআপের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। জয়ের কথায়, তিনি বোলারদের দিকে অত মনোযোগ দেননি। তার নজর ছিল কেবল বলের দিকে। আর তাতেই ভয়ডরহীনভাবে খেলতে পেরেছেন।

মাহমুদুল হাসান জয় বলেন, ‘শুরু থেকেই আমার ও সাদমান ভাইয়ের পরিকল্পনা ছিল বল বাই বল খেলা। পাশাপাশি নতুন বলকে কীভাবে পুরনো করা যায়। একবারে লম্বা চিন্তা করলে সাফল্য নাও আসতে পারে। বল বাই বল খেললে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই পরিকল্পনায় খেলাতেই আমাদের জুটি ভালো হয়েছে।’

নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক মুমিনুল হকের সমর্থনের কথাও জানান তিনি। জয় বলেন, ‘শান্ত ভাই আসলে ওনার সঙ্গেও অনেক ভালো একটা জুটি হয়। আমি বেশি শট খেলার জন্য আক্রমণাত্মক হতে গেলেই ওনি আমাকে নিয়ন্ত্রণে থাকতে বলতেন। মুমিনুল ভাইও একই কথা বলেছেন। ওনার কথা ছিল, ডট বল হলে সমস্যা নেই। এভাবেই খেলে যেতে থাকো।’

নিজের ব্যাটিং নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না জানিয়ে তরুণ এই ক্রিকেটার বলেন, ‘সাধারণভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি। প্রস্তুতি ম্যাচে মোটামুটি ভালো করেছিলাম। ওখান থেকেই মূলত আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। পরিকল্পনা ছিল বেশি রানের দিকে যাবো না। যত বেশি বল খেলে থিতু হতে পারবো, রান এমনিতেই আসবে। সবাই বলেছেন, ব্যাটিংয়ে থাকলেই রান আসবে।’

নিল ওয়াগনার, ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি ও কাইল জেমিসনের মতো বিশ্বসেরা বোলিং আক্রমণের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জয় বলেন, ‘তাদের বোলিং বিশ্বের অন্যতম সেরা। নিউজিল্যান্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়ন। আমি চেষ্টা ছিল নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে। বোলারদের নাম দেখে নয়, বল দেখে খেলেছি।’

ইত্তেফাক/টিএ