পত্রিকায় খবর দেখে ক্যান্সার আক্রান্ত নারীর পাশে পারভেজ

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৩৬

গেল বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে দেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমেই উঠে আসে পঞ্চগড়ের স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত ৫০ বছর বয়সী কুলসুম বেগম গল্প। সাহায্যের আবেদন জানিয়ে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন দেখেই কুলসুম বেগমের কাছে ছুটে যান ফরিদপুরের সমাজকর্মী, ফ্রিল্যান্স জার্নালিস্ট ও ডিজিটাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পারভেজ চোকদার।

সম্প্রতি পারভেজ চোকদার পঞ্চগড়ে গিয়ে কুলসুম বেগমের হাতে আর্থিক সহযোগিতা পৌঁছান। তিনি কুলসুম বেগমকে তার প্রয়োজনীয় একমাসের সকল ওষুধপত্র কিনে দেন। বর্তমানে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত কুলসুমের কেমোথেরাপি চলছে। চিকিৎসকরা বলছেন, কেমোথেরাপি শেষে অবস্থার উন্নতি হলে তার অপারেশন করানো হবে।

তিনি বলেন, আমি সবসময় সাধ্যমত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। গণমাধ্যমে সংবাদটি দেখার পর থেকেই হৃদয়ে ব্যথা অনুভব করতে থাকি। পরে মায়ের বয়সী কুলসুম পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। দোয়া করি তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন।

স্ত্রীর অসুস্থতার ব্যাপারে মো. সেলিম জানান, কয়েক বছর হলো কুলসুমের সমস্যাটা বুঝতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা করানো হয়নি। সম্প্রতি রংপুরে ডাক্তার দেখাই এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারি আমার স্ত্রী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত। বর্তমানে তার অবস্থা খুব খারাপ। যুগান্তরের মাধ্যমে যে আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছি সেটি বেশ কাজে লেগেছে।

তিনি বলেন, ডাক্তার আপাতত চারটা কেমোথেরাপি দিতে বলেছেন। কেমোথেরাপির পর অবস্থা সুবিধাজনক হলে তারা স্তন অপসারণসহ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। অনেক কষ্টে স্ত্রীর কিছু গহনা আর মানুষের সাহায্যে দুইটা কেমো ইতোমধ্যে দিয়েছি। বর্তমানে কেমো দেওয়ার মতো আর কোনো টাকা নেই। এসব কথা বলতেই হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন সেলিম।

বর্তমানে সেই কুলসুমের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তার মাথার চুল উঠে যাচ্ছে, দাঁত পড়ে গেছে। তিনি বলেন, ব্যথার যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না। প্রতিনিয়ত মনে হচ্ছে মরে যাচ্ছি। বাবারা আপনারা পারলে আমাকে বাঁচান।

দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় অল্প বয়সেই দিনমজুর মো. সেলিমের সঙ্গে ঘর বাঁধেন কুলছুম বেগম। তাদের ঘর আলো করে একে একে আসে চার কন্যা। স্বামী-স্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করে কোনমতে সংসার চালাতে থাকেন। এর মধ্যে চার কন্যাকে বিয়েও দেন কুলসুম।  সংসার সামলাতে এবং মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে নিজেদের সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই। এরমধ্যেই কুলছুম বেগমের শরীরে বাসা বেঁধেছে ক্যান্সার। অর্থের অভাবে কেমোথেরাপি দিতে পারছেন না স্বামী মো. সেলিম। যন্ত্রণায় কাতর স্ত্রীর পাশে বসে চার কন্যাকে নিয়ে যেন মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করার নেই তার।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি