মোহাম্মদ আশরাফুলকে অনেকেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার বলেন। তিনি তার সময়ে যা করে দেখিয়েছেন তা পারেননি অন্য অনেকেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের শুরুটা খুব ভালো ছিলো না। গুটি গুটি পায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট এগিয়েছে অনেকটাই। আর তাতে মোহাম্মদ আশরাফুলের অবদান অস্বীকার করার উপায় নাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের প্রথম জয়গুলোতে আশরাফুলের ব্যাট হেসেছে বারবার।
২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম জয়ে তিনি খেলেন ৩২ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস। হন ম্যাচসেরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয় আসে ২০০৫ সালে। ম্যাচ শেষে রিকি পন্টিং এর সেই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পেছনে আশরাফুলের অবদান সবথেকে বেশি। ১০১ বলে খেলেন ১০০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস।
আবার ২০০৬ ও ২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কা ও কানাডার বিপক্ষে প্রথম জয়েও ছিলো তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান। করেছিলেন যথাক্রমে ৫১ ও ৬০ রান। সাউথ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম জয় পায় ২০০৭ সালে। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচটিতে তিনি খেলেন ৮৩ বলে ৮৭ রানের এক কার্যকরী ও ম্যাচ উইনিং ইনিংস। হন ম্যাচ সেরা। একই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ব্যাট হাতে করেন ৬১ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও ওঠে তার হাতে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জয় পায় আয়ারল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। দুটি ম্যাচেই অপরাজিত থাকেন যথাক্রমে ৬৪ ও ৬০ রান করে। ২০০৯ সালে আরব আমিরাতের বিপক্ষে প্রথম জয়ে ১০৯ রান করে হন ম্যাচসেরা।
মোহাম্মদ আশরাফুল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আলো ছড়িয়েছেন অনেক বছর। এখন নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটেও রান করে যাচ্ছেন। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ম্যাচের কঠিন সময়গুলোতে ভালো খেলে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে আসছেন নিজেদের পক্ষে। আরও ভালো পারফর্ম করে শীঘ্রই জাতীয় দলে ডাক পাবেন বাংলাদেশের ‘লিটল মাস্টার’। এমনটাই আশা সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তার ভক্ত-অনুরাগীদের।
