শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেই আজ ৭০৮ ইউপির ভোট 

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৩০

সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেই আজ বুধবার পঞ্চম ধাপের ৭০৮ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা-অজানা শঙ্কা রয়েছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে।

ভোট নিয়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে নির্বাচনি সব এলাকায়। অনেক জায়গায় ভোটকেন্দ্রে যেতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা। যদিও সহিংসতার ঘটনায় ‘অস্বস্তি’ ও ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) কঠোর পদক্ষেপে নেওয়ার কথা বললেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। ফলে এই ধাপের নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় বাধ্য হয়ে ১৯ জেলায় বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে। ৪৮ জেলার ৯৬ উপজেলায় এই ধাপে ভোট হবে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ইউপি নির্বাচনে ইসির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। নির্বাচন কমিশন অনেকটা অসহায়। প্রতিটি ধাপের ভোটের দিন প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভোট সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রায় ৮৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছে পাঁচ শতাধিকের মতো। প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ আসাই স্থানীয় সংসদ সদস্যদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ১৯টি উপজেলায় সহিংসতার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে মাঠ প্রশাসন। এজন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোতে মোতায়েন করা হচ্ছে অতিরিক্ত বিজিব ও র্যাব। বিভিন্ন জেলা প্রশাসন থেকে ভোটের আগে-পরে ১৯টি উপজেলায় সহিংসতার আশঙ্কা করে সম্প্রতি অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের চাহিদাপত্র দিলে ইসি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও বলেছে।

নির্বাচন উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার সব ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে র্যাব, পুলিশ ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নির্বাচনি এলাকায় টহল শুরু করেছেন। তারা থাকবেন ভোটের পরের দিন পর্যন্ত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে রয়েছেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। এ ধাপে ৪০ ইউপিতে ইভিএমে ভোট হবে। আর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোট ১৯৩ জন জনপ্রতিনিধি। এরমধ্যে চেয়ারম্যান ৪৮ জন, সংরক্ষিত সদস্য ৩৩ জন এবং সাধারণ সদস্য ১১২ জন। মোট প্রার্থী সংখ্যা ৩৬ হাজার ৪৫৭ জন। চেয়ারম্যান ৩ হাজার ২৭৪ জন, সংরক্ষিত সদস্য ৭ হাজার ৯৫০ এবং সাধারণ সদস্য ৩৯ হাজার ৩৯১ জন। এ ধাপে মোট ভোটারসংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ২০ হাজার ১৯৫ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৬৮ লাখ ৩৬ হাজার ৩১ জন ও পুরুষ ৭০ লাখ ৬০ হাজার ১৪০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ২১ জন ভোটার রয়েছেন। ভোটকেন্দ্র ৭ হাজার ১৩৭টি, ভোটকক্ষ ৩৯ হাজার ৩৯১টি।

এদিকে বিগত চার ধাপের নির্বাচনে জাল ভোট, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বোমা হামলা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। অন্যান্য ধাপের নির্বাচন নিয়ে প্রতিদিনেই সংঘর্ষ হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। ভাঙচুর চলছে বাড়িঘর নির্বাচনি ক্যাম্পে। হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের। পালটাপালটি অভিযোগ করছেন আওয়ামী লীগ ও দলের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। প্রতিপক্ষকে হুমকি-ধামকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নেই। মেম্বার প্রার্থীরাও নিজ নিজ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে সংঘাত করছে। তাই ভোট নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া বিনাভোটে নির্বাচিতের সংখ্যাও নির্বাচনি রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পাঁচ ধাপে ৩ হাজার ৭৪৪ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ১ হাজার ৫৫৫ জন জনপ্রতিনিধি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম ধাপের ১৪১ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৩৫৭ জন, তৃতীয় ধাপে ৫৬৯ জন, চতুর্থ ধাপে ২৯৫ জন ও পঞ্চম ধাপে ১৯৩ জন বিনাভোটে নির্বাচিত হন। সব মিলে ইউপি ভোট নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে রয়েছে ইসি।

পঞ্চম ধাপ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের ছক থেকে জানা গেছে, প্রতি উপজেলায় র্যাবের দুইটি মোবাইল টিম ও একটি স্ট্রাইকিং টিম মোতায়েন রয়েছে। বিজিবির মোবাইল টিম রয়েছে দুই প্লাটুন ও এক প্লাটুন সদস্য নিয়োজিত আছে স্ট্রাইকিং টিম হিসেবে। একই হারে কোস্ট গার্ডও মোতায়েন করা হয়েছে। ১৯টি উপজেলার কোথাও অতিরিক্ত দুই প্লাটুন বিজিবি এবং কোথাও এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দিয়েছে ইসি। এছাড়া র্যাবের অতিরিক্ত টিমও মোতায়েন থাকছে। ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন। কেন্দ্র পাহারায় পুলিশ, আনসারের সমন্বয়ে নিয়োজিত রয়েছে ২২ জনের ফোর্স। এছাড়া ভোটের এলাকায় পুলিশ, আনসার ও ব্যাটেলিয়ন আনসারের একটি করে টিম মোবাইল ফোর্স হিসেবে এবং প্রতি ইউপির জন্য একটি করে টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

৭০৮ ইউপি ভোটের মনিটরিং সেল গঠন : পঞ্চম ধাপের ৭০৮ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন উপলক্ষ্যে অন্যান্য ধাপের মতো নির্বাচনি মনিটরিং সেল গঠন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ঢাকা থেকে মনিটরিং করবে ঐ সেল।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাস মহামারি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় ইউপি প্রথম ধাপে গত ২১ জুন ও ২০ সেপ্টেম্বর এবং দ্বিতীয় ধাপে ১১ নভেম্বর, তৃতীয় ধাপে ২৮ নভেম্বর ভোট গ্রহণ হয়। গত ২৬ ডিসেম্বর চতুর্থ ধাপের ভোট হয়। আজ পঞ্চম ধাপের ভোট হবে। এছাড়াও ষষ্ঠ ধাপের ভোট হবে ৩১ জানুয়ারি। আর সপ্তম ধাপে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ করবে ইসি। 

ইত্তেফাক/ইউবি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭২ শতাংশ, প্রাণহানি ১০০: ইসি

রেকর্ডসংখ্যক ইউপিতে জয় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের

সপ্তম ধাপে ১৩৮ ইউপিতে ভোট আজ

৫৪ শতাংশ ইউপি নৌকার দখলে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যেই আজ ২১৮ ইউপিতে ভোট

প্রভাব বিস্তার করে বিনা ভোটে জয়!

৭ম ধাপের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন যারা

পঞ্চম ধাপেও এগিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা