ব্যাংকিং খাতে খেলাপি না করার বিশেষ সুবিধা আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, করোনা মহামারিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখনো ভয়াবহ অবস্থায় দিন পার করছেন। এজন্য ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কোভিড পুনরায় বিস্তার লাভ করায় লকডাউন ঘোষণা করা হচ্ছে। কোভিডের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপরও পড়ছে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে চালু না হওয়ায় শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তাদের ঋণের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণে ঋণখেলাপি না করার সুবিধা জুন পর্যন্ত করলে ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পাবে।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, ঋণ শ্রেণীকরণের মেয়াদ বাড়ালে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি আসবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার দ্রুত সম্ভব হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যত দ্রুত ঋণ শ্রেণীকরণ সুবিধার মেয়াদ বাড়ানো সংক্রান্ত ঘোষণা দেবে সেটা ব্যবসায়ীদের জন্য তত সুবিধা হবে। ক্ষুদ্র, মাঝারি ও অন্যান্য শিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের বকেয়া ঋণের পরিমাণ ১০ কোটি টাকা বা তার কম হলে পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রদেয় কিস্তিগুলোর কোনো প্রকার ডাউন পেমেন্ট না দিলেও মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে শ্রেণীকরণ না করে ঋণ হিসাবটি পুনঃতপশিলকৃত বলে গণ্য করতে হবে। ১০ কোটি টাকার অধিক কিন্তু ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ২ শতাংশ পরিশোধ করা হলে এ ঋণখেলাপি (বিরূপমানের শ্রেণীকরণ) না করা এবং ৫০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ ১ শতাংশ পরিশোধের শর্ত রেখে কাউকে খেলাপি না করার অনুরোধ জানান তিনি।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, করোনার প্রভাব কাটিয়ে এখন অর্থনীতি পথচলা শুরু করেছে মাত্র। পণ্য তৈরি ও বিক্রির পরই ব্যাংকের টাকা পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা। ঋণ পরিশোধের বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ আরও বেশিদিন রাখার পক্ষে তিনি।
তিনি বলেন, বিদ্যমান কোভিড পরিস্থিতির সঙ্গে ভীতির কারণ হিসেবে আরেকটি ধরন যোগ হয়েছে, তা হলো ওমিক্রন। ইতোমধ্যে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে কোভিডের সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে কোনো কোনো দেশে লকডাউন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপিত হয়েছে। ফলে ঐ দেশগুলোর অর্থনীতি পাশাপাশি আমাদের ব্যবসা বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন চলমান কোভিড পরিস্থিতিতে ঋণ বিরূপমানে শ্রেণীকরণ প্রক্রিয়া প্রদেয় ঋণের ২৫ শতাংশ পরিশোধের শর্ত শিথিল করে আগামী জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখার কথা বলেন।
করোনার কারণে ২০২০ সাল জুড়ে কোনো টাকা পরিশোধ না করলেও গ্রাহকদের খেলাপি করা যাবে না এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালে বিশেষ সুবিধার নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়। বলা হয়, ডিসেম্বরের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে ঋণের ২৫ শতাংশ পরিশোধ করলে খেলাপি হবে না গ্রাহক। বিশেষ এ সুবিধা আর বাড়ানো হবে না বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ শেষ না হওয়ায় এখনই নীতিসহায়তা তুলে না নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। নতুন নির্দেশনা জারি করে জানানো হয়, ২০২১ সালে এক জন ঋণগ্রহীতার যে পরিমাণ পরিশোধ করার কথা তার মধ্যে ১৫ শতাংশ পরিশোধ করলে গ্রাহক নিয়মিত থাকতে পারবেন। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হবেন না। যার মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। তবে চার দিন পর আবার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মৌখিকভাবে বিশেষ সুবিধার মেয়াদ ২০ দিন বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ যেসব এলাকায় ব্যাংক বন্ধ