তরুণ দম্পতি রোকন মাহমুদ বাণিজ্য মেলায় এসেছিলেন বেলা ৩টার দিকে। সন্ধ্যায় তিনি বের হচ্ছেন মেলা থেকে। টুকটাক কিছু কেনাকেটাও করেছেন। যাবেন মিরপুরে। কেমন লাগছে এবারের বাণিজ্য মেলা? জিজ্ঞেস করতেই জানালেন, ভালো। একটু দূরে হয়। রাস্তাঘাট ভালো না। ভাঙাচোরা আর ধুলায় মাখামাখি অবস্থা। এ ছাড়া নিরাপত্তার একটা বিষয় আছে।
তিনি বলেন, কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভার থেকে পূর্বাচল বাণিজ্য মেলা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে এখনো সেভাবে কোনো ঘরবাড়ি, স্থাপনা গড়ে ওঠেনি। চারপাশ জুড়ে ফাঁকা। ফলে একটু ভয় কাজ করে। তবে নিরাপত্তাহীনতার সব আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এ এফ এম সায়েদ বলেন, মেলা ও আশপাশের পুরো এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা নেই। তবে মেলায় আগতরা জানালেন যানবাহন সংকটের কথা । বিশেষ করে সন্ধ্যার দিকে এ সংকট প্রকট আকার ধারণ করে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার পূর্বাচলে নবনির্মিত স্থায়ী কমপ্লেক্স বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার (ডিআইটিএফ) উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্র জানিয়েছে, এবার মেলায় ১ হাজার ৬০০ পুলিশ, র্যাব, আনসার, স্বেচ্ছাসেবক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পর্যায়ক্রমে দিনরাত কাজ করছে। মেলায় পুলিশের ১৫টি মোবাইল টিম টহল দিচ্ছে। পূর্বাচলের পশ্চিম সীমানাবর্তী বালু নদীর ব্রিজ থেকে পূর্বাচলের পূর্ব সীমানাবর্তী শীতলক্ষ্যা নদীর ব্রিজ ও উত্তরে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ থানার সীমানাবর্তী পলখান পর্যন্ত আর দক্ষিণে পূর্বাচলের শেষ সীমানা পর্যন্ত পুলিশের টহলের আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া শতাধিক পুলিশ পায়ে হেঁটে বাণিজ্য মেলার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। প্রয়োজনে ৯৯৯ এ কল করেও দর্শনার্থীরা আইনি সহায়তা পাবেন। বাণিজ্য মেলার পুলিশের কন্ট্রোলরুমের ০১৩২০০৯০৫০০ নম্বরে কল করেও মেলার নিরাপত্তাবিষয়ক পুলিশের সহায়তা পাওয়া যাবে।
এখানে পাঁচটি উঁচু ওয়াচ-টাওয়ারে পুলিশ সার্বক্ষণিক বাইনোকুলারে মেলা পর্যবেক্ষণ করছে। মেলা প্রাঙ্গণে ১৭৫টি সিসি ক্যামেরা ও মেলার আশপাশের এলাকায় আরো ৬০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ১০টি মোটরসাইকেলে পুলিশ মেলা ও আশপাশের এলাকায় টহল দিচ্ছে। এখানে কোনো অপ্রতীকর ঘটনা না ঘটলেও পুরো এলাকাটাকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তবে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক নামে পরিচিত কুড়িল-কাঞ্চন সড়কের পুলিশের নির্দেশিত রাস্তায় চলাচল করতে বলা হয়েছে। পূর্বাচলের নির্মাণাধীন কিংবা অন্য কোনো সড়ক ব্যবহার করা যাবে না। পূর্বাচল উপশহরের ভেতরে অনেক সড়ক। সে কারণে সব সড়কে নিরাপত্তার বলয় তৈরি করা যায়নি। তাই নির্ধারিত সড়কে দর্শনার্থীদের চলাচল করতে হবে। মেলায় ঘুরতে আসা সাবিনা ইয়াছমিন বলেন, দর্শনার্থীদের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচলে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে নিজেদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের শীর্ষে যেসব শেয়ার
আজ যেসব এলাকায় ব্যাংক বন্ধ