গল্পটা দুইদিন আগেরই। গত ১ জানুয়ারি মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে পেসার এবাদত হোসেনের নাম দেখে সবাই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। একটাই প্রশ্ন, রাহীর (আবু জায়েদ রাহী) বদলি কেন এবাদত? কারণটা অবশ্য টেস্টে এবাদতের বাজে পারফরম্যান্সের কারণেই। অভিষেকের পর থেকে তিনি যে দলে অবদান রাখতে পারছিলেন না। উইকেট শিকার করা তার জন্য যেন অসম্ভব কোনো কাজ।
অথচ সেই এবাদত হোসেনই এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়ের নায়ক। তার দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনীতেই শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে তাদের ঘরের মাঠে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সৃষ্টি করেছে নতুন ইতিহাস। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬টি এবং প্রথম ইনিংসে একটিসহ মোট ৭ উইকেট শিকার করে ম্যাচসেরা হয়েছেন এই পেসার।
বুধবার (৫ জানুয়ারি) ম্যাচশেষে এবাদত জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। তিনি জানান, এবার দেশ ছাড়ার সময়ই নিউজিল্যান্ডকে হারানোর সংকল্প করেছিলেন তারা। জয় এনে দিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে চেয়েছেন।
প্রথমে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে এবাদত হোসেন বলেন, ‘কিউইদের মাটিতে আমাদের দল ২১ বছর ধরে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। এবার একটা লক্ষ্য ঠিক করে এসেছিলাম, নিজেদের হাত তুলেছি এবং বলেছি তারা টেস্ট চ্যাম্পিয়ন। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তাদের হারানোর উদাহরণ রেখে যেতে চাই।’
নিজের বোলিং প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত দুই বছর ওটিস গিবসনের (পেস বোলিং কোচ) সঙ্গে কাজ করেছি। ঘরের মাঠে উইকেট (পিচ) সবসময় ফ্ল্যাট থাকে। আমরা এখনো বাইরে (বিদেশের মাটি) কীভাবে বল ও রিভার্স সুইং করতে হয় তা শিখছি। সাফল্যের জন্য কিছুটা ধৈর্য ধরতে হয়েছে।’
সিলেটের এই পেসার ক্রিকেটে আসার আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সদস্য ছিলেন। খেলেছিলেন ভলিবলও। এরপর বিসিবির পেসার হান্টের মাধ্যমে দ্রুতই সবার নজরে চলে আসেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্স করে জাতীয় দলেও ঢুকে পড়েন। তাইতো ক্রিকেট কিংবা বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করা, দেশের জন্য দুটো কাজই তার কাছে উপভোগ্য।
এবাদত বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন সদস্য। জানি কীভাবে স্যালুট দিতে হয়। আমি ক্রিকেটটা উপভোগ করছি। বাংলাদেশ ও বিমানবাহীন প্রতিনিধিত্ব করাটাও।’
