শেবাচিমের গাইনি ওয়ার্ড ইনচার্জকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে স্মারকলিপি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২২:১৮

ডাস্টবিনে ৩১ অপরিণত ভ্রুণ

বরিশাল অফিস

বরিশালের শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের ডাস্টবিনে ৩১টি অপরিণত শিশুর ভ্রূণ  (ফিটাস) উদ্ধারের ঘটনায় গাইনি ওয়ার্ড ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স জোত্সনা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করার প্রতিবাদে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গত বুধবার শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক বরাবর ‘সকল সাধারণ নার্সিং কর্মকর্তাদের’ ব্যানারে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

হাসপাতালের সকল নার্সিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর সংবলিত ওই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘হাসপাতালের ডাস্টবিনে গর্ভকালীন বিভিন্ন বয়সের অপরিণত মানবদেহের নমুনা (যা দীর্ঘদিনের ব্যবহারে পরিত্যক্ত) পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। চিকিত্সা শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত উল্লেখিত উপকরণসমূহ অপসারণের প্রক্রিয়া অমানবিক ও যথাযথ না হওয়ায় কর্তব্য কার্যের অবহেলার কারণ দেখিয়ে গাইনি ওয়ার্ড ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স জোত্সনা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু জোত্সনা আক্তারের বক্তব্য অনুযায়ী গর্ভকালীন বিভিন্ন বয়সের অপরিণত মানবদেহের পরিত্যক্ত নমুনা সমূহ কখনোই তার তদারকি বা দায়িত্বে ছিল না এবং এ যাবত্ গাইনি ওয়ার্ডের কোনো ইনচার্জ এই সকল নমুনা সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিল না। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চিকিত্সা শিক্ষাকার্যে ব্যবহারের অনুপযোগী নমুনাসমূহ নির্দিষ্ট ল্যাব হতে অপসারণের ক্ষেত্রে জোত্সনা আক্তার অবগত ছিলেন না।’

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই ঘটনায় জোত্সনা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করায় সাধারণ সকল নার্সিং কর্মকর্তাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্বে তাকে সাময়িক বরখাস্ত যুক্তিযুক্ত নয়। এই অবস্থায় জোত্সনা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তার প্রতি সুবিচার করার দাবি জানিয়েছেন নার্সিং কর্মকর্তাবৃন্দ।’ এ বিষয়ে নার্সিং কর্মকর্তা সেলিনা আক্তার জানান, যে রুমের দায়িত্বে কখনোই নার্সিং স্টাফরা ছিলেন না সে রুমের দায়ভার কেন নিবেন। এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের মধ্য দিয়েই আসল চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন।

এ বিষয়ে গাইনি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. খুরশীদ জাহান বেগম জানান, ‘পোষ্ট গ্র্যাজুয়েশন কোর্স চালুর জন্য গাইনি বিভাগের একটি কক্ষ পরিষ্কার করে লাইব্রেরি বানানোর কথা। সে অনুযায়ী স্টোর হিসেবে পরিচিত কক্ষটি পরিষ্কার করা হচ্ছিল। কিন্তু পরিষ্কারের আগে পরিদর্শনের সময় এগুলো দেখা যায়নি। কারণ তখন এগুলো বস্তাবন্দি অবস্থায় অকেজো মালামালের মধ্যে ছিল।  ঘটনার আগে তিনি এগুলো পরিষ্কার করার জন্য নার্সিং ইনচার্জ জোত্সনা আক্তারকে বলেন।