প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদালতের রায় বাংলায় লিখতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আদালতের রায়টা যদি কেউ ইংরেজিতেও লিখতে চায়— লিখতে পারে। কিন্তু একটা শর্ত থাকবে— এটা বাংলা ভাষাতেও প্রকাশ করতে হবে। যিনি রায় পাবেন তিনি যেন পড়ে জানতে পারেন। আর ইংরেজিও রোমান স্টাইলে না লিখে একটু সহজ ইংরেজিতে লেখা, অন্তত যে ভাষাটা সবাই বুঝতে পারে সে ভাষায় লেখা উচিত। আর বাংলায় রায় লিখে ইংরেজিতে ট্র্যান্সলেশন করে দিতে পারে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি আমাদের যারা আদালতে আছেন তারা যদি মাতৃভাষায় লেখার অভ্যাসটা করেন, সেটাতে অন্তত স্বল্প শিক্ষিত যারা তাদের জন্য সুবিধা হবে। আইনজীবীর ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। নিজেও একটু বুঝতে পারবে- রায়টায় কী আছে। আমাদের দেশে এখন না হয় আমরা শিক্ষার হার বাড়িয়েছি। কিন্তু ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি তখন অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নই ছিল মাত্র ৪৫ ভাগ। অধিকাংশ মানুষ বাংলা ভাষাতেও লেখা-পড়া জানতো না। আর ইংরেজি যে রায়টা দেওয়া হয় সেই রায়ে কী বলা হলো এ জন্য নির্ভর করতে হয় আইনজীবীর ওপর। তিনি (আইনজীবী) যা বুঝিয়ে দেবেন সেটাই বুঝতে হবে, নিজে পড়ে জানার কোনো সুযোগ তার থাকে না। অনেক সময়ই তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়। অথবা তাদের অন্যভাবে ব্যবহারও করা হয়।
মাতৃভাষা ভালোভাবে শেখা ও চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষা, মাতৃভাষা জানা, এটা অপরিহার্য। আজকে বিশ্ব-গোবাল ভিলেজ। আমাদের যোগাযোগটা, ভাষাগতভাবে যোগাযোগটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পৃথিবীর সব দেশে কিন্তু নিজের ভাষা শিক্ষার সাথে সাথে একটা দ্বিতীয় ভাষা শিক্ষা নেয়। কাজেই দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে অন্য ভাষা শিক্ষার সুযোগ কিন্তু আমাদের দেশে আছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৯টি ভাষা দিয়ে একটি অ্যাপস তৈরি করে দিয়েছি আমরা। এখন বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি। শেখ হাসিনা বলেন, ইংরেজি একটা মাধ্যম হয়ে গেছে সারা বিশ্বে। কাজেই আমাদের দেশে এটা দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে শিখতে পারে। বাংলা ভাষা, মাতৃভাষা, যে ভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি, সেই ভাষাটাও সবাই যাতে ভালোভাবে শেখে সেই ব্যবস্থাটাও করা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
শুদ্ধ বাংলা ভাষা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাংলাদেশে একেক অঞ্চলে একেক ধরনের কথা বলি। এতে কোনো সন্দেহ নাই। আমরা অফিসিয়াল একটা ভাষা ব্যবহার করি। যে ভাষাটা প্রমিত বাংলা, ইতোমধ্যে আমাদের বাংলা একাডেমি প্রকাশ করেছে। সে জন্য বাংলা একাডেমিকেও ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, আমরা যারা আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করি সেটাকে একেবারে বাদ দেওয়া ঠিক না। বাদ দিলে আমাদের নিজেদের অস্তিত্বই থাকে না। একুশের চেতনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশ আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই একুশের আন্দোলন থেকে শুরু করে আমরা একটা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।
চিকিত্সক-নার্সদের আন্তরিকভাবে সেবা দেওয়ার নির্দেশ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদের আন্তরিতকভাবে সেবা প্রদান করতে চিকিত্সক-নার্সদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। সার্বক্ষণিক চিকিত্সার খোঁজ-খবর রাখছেন শেখ হাসিনা। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. সামান্ত লাল সেনের সঙ্গে কয়েক দফা মুঠোফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিত্সার জন্য যা যা করণীয় তাই করার নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।
