বিশেষ প্রতিনিধি
চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পাওয়ামাত্রই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল যে, স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল ২০১০ সালে নিমতলী এলাকায়। কেমিক্যালের গোডাউন থেকে সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন মারা যান। দগ্ধ হয় আরও শতাধিক। হতাহত সকলকে আনা হয় এ বার্ণ ইউনিটে। ওই সময় অগ্নিদগ্ধদের বার্ণ ইউনিটসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সকল ধরনের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিরতিহীনভাবে চিকিত্সা সেবায় নিয়োজিত ছিলেন। এবারো সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছেন।
গতকাল চকবাজারে কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বার্ণ ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেনের নেতৃত্বে ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টিম গঠন করে দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করেন। প্রস্তুত রাখা হয় ইমারজেন্সি বিভাগ, ওয়ার্ড ও আইসিইউ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরউদ্দিন চিকিত্সা সেবা সারাক্ষণ মনিটরের দায়িত্বে ছিলেন। রাত ১১টার পর থেকে হাসপাতালে একের পর এক আসতে শুরু করে অগ্নিদগ্ধরা। ওই সময় প্রতিটি অগ্নিদগ্ধের জন্য নিয়োজিত মেডিক্যাল টিম চিকিত্সা সেবা শুরু করেন। ১৮ জন দগ্ধকে বার্ণ ইউনিটে আনা হয়। তাদের মধ্যে ৯ জনকে প্রাথমিক চিকিত্সা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
শোকের মাঝেও আত্মীয়-স্বজন ডাক্তার-নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিত্সা সেবার দৃশ্য দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। মেডিক্যাল টিমের মধ্যে ছিলেন বিশিষ্ট প্লাস্টিক সার্জন ও শেখ হাসিনা বার্ণ ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম এবং বার্ণ ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সাজ্জাদ খন্দকার। এই ধরনের দুর্যোগে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও বার্ণ ইউনিটের সকল স্তরের ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরতিহীনভাবে চিকিত্সা সেবার দায়িত্ব পালন অতুলনীয়।
