নাসিক নির্বাচন: প্রচারণায় ব্যস্ত আইভী-তৈমূর

  • নৌকার জোয়ার উঠেছে: আইভী
  • আওয়ামী লীগ বড় কথা বলে: তৈমূর
  • মাঠে দেখা যাচ্ছে না অপর তিন প্রার্থীকে
আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:৫৬

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। মেয়র প্রার্থীরা প্রতিদিন অন্ততপক্ষে দুইটি করে ওয়ার্ডে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আইভী ও তৈমূরের সমর্থকরা নৌকা এবং হাতি প্রতীকে ভোট চেয়ে পাড়া-মহল্লা চষে বেড়াচ্ছেন। নাসিকে মেয়র পদে সাত জন প্রার্থী থাকলেও মাঠে তৈমূর ও আইভী ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা মার্কা এবং খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি মার্কার প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপর তিন প্রার্থীকে মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী সকালে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ও বিকালে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনি প্রচারণাকালে নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে বলেন, ‘নৌকার জোয়ার উঠেছে। বিজয় সুনিশ্চিত।’ এ সময় আইভী বলেন, আমার দায়িত্ব হলো নেক্সট টার্মে যদি আসি তাহলে আসব মানুষের খেদমত করার জন্যই। প্রতিটা ওয়ার্ডে পানি পৌঁছে দেওয়া, ওয়ার্ডগুলোতে খেলার মাঠের ব্যবস্হা করে দেওয়া হবে। আইভী তাকে জয়যুক্ত করার জন্য নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আরেক বার সেবা করার সুযোগ চান। 

মাদক ও সন্ত্রাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি হয়তো সবাইকে এসব বিষয়ে সচেতন করতে পারবো। তবে মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলের কাজ হলো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। আমাদের শহরে কোথায় মাদক বিক্রি হচ্ছে, কারা বিক্রি করছে—এগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লক্ষ করবে। তারা চাইলে তা রোধ করতে পারে। আমাদের হেল্প লাগলে দেব। আমি মাদকের বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার ছিলাম, এখনো আছি।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি নারীদের জন্য অনেক কাজ করেছি। তাদের জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্হা করেছি, লোন দিচ্ছি, তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার জন্য বই-খাতা কিনে দিচ্ছি, সেলাইকাজ শেখাচ্ছি। নারীদের স্বাবলম্বী করতে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যও কাজ করছি। নারীদের ডিমান্ড অনুযায়ী কাজ করতে চাই।’ তিনি আরো বলেন, আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা তৈমূর আলম খন্দকার গতকাল নাসিকের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনি প্রচারণাকালে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের মানুষ এবার ভুল করতে রাজি নয়। আওয়ামী লীগের যিনি প্রধান তিনিই বলেছেন তৈমূর আলম উইনেবল ক্যান্ডিডেট। তিনি তিন বার বলেছেন—তৈমূর জেতার মতো লোক। নারায়ণগঞ্জের মানুষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা বিশ্বাস করবে নাকি সরকারি দলের এমপি-মন্ত্রীদের কাহিনী বিশ্বাস করবে।’ 

প্রচারণায় ব্যস্ত আইভী-তৈমূর। ছবি: তাপস সাহা

তৈমূর বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী একটা প্রার্থী দীর্ঘদিন যাবত খুঁজছিল। আমি কয়েক বার দাঁড়াইনি আর একবার আমার দল নিজেই বসে গেছে। তখন আমার কিছু করার ছিল না যেহেতু আমি দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছি। আমি জনগণের ফুলের মালা পাচ্ছি এখন। 

নারায়ণগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিশোরদের হাতে অল্টারনেটিভ না থাকার কারণেই কিশোর গ্যাং হচ্ছে। যেখানে খেলার মাঠ হওয়ার কথা সেখানে সিটি করপোরেশন অ্যাপার্টমেন্ট করেছে। অ্যাপার্টমেন্ট করাটা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব না। 

এদিকে তৈমূর আলম খন্দকারকে আইনজীবী ফোরাম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও গতকাল বিকালে নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির বিএনপিপম্হি আইনজীবীরা তৈমূরের পক্ষে শহরের প্রধান প্রধান এলাকায় গণসংযোগ করে হাতি মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেছেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি প্রায় রোজই নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন এলাকায় কর্মিসভার পাশাপাশি নৌকা মার্কার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। গত বুধবারও গভীর রাত পর্যন্ত শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় করে নির্বাচনের দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই সভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বিজয়ী করতে ২৭টি ওয়ার্ডে যুবলীগের কমিটি গঠন করা হয়। ২৯৭ সদস্যবিশিষ্ট ঐ কমিটির ১১ জন করে সদস্য প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। 

এ সময় উপস্হিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুর রহমান, আহমদ হোসেন, যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু মনির মো. শহিদুল হক রাসেলসহ কেন্দ্রীয় বেশ কয়েক জন নেতা। স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ আইভীর পক্ষে কাজ করার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। অন্যদিকে বিএনপির বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীরা জনতার কমিটি নামে পাড়া-মহল্লায় নিজেরা সংগঠিত হয়ে স্ব-উদ্যোগে কমিটি গঠন করে হাতি মার্কার পক্ষে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বলা চলে বিএনপির মাঠ পর্যায়ের সব নেতাকর্মীই হাতির পক্ষে মাঠে নেমে গেছেন।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি