মোহামেডানের বিদায়ে কর্মকর্তারা লাঞ্ছিত

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:১২

১২ বছর পর ফেডারেশন কাপের ফাইনালের ওঠার স্বপ্ন নিয়ে কমলাপুর স্টেডিয়ামে হাজির হয়েছিলেন সাদা-কালো সমর্থকরা। খেলার আগে চোখে-মুখে বিরাজ করছিল রোমাঞ্চ আর উত্তেজনা। কিন্তু খেলা শেষে মাটি হয়ে গেল সবকিছুই। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের গোলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক আসর পর ফের ফাইনালের টিকিট কাটে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটি।

এমন হূদয়ভাঙা বিদায় মেনে নিতে পারেননি মোহামেডান সমর্থকরা। গত একদশক ধরে ক্লাবকে ধুকতে দেখছেন তারা। বাজে সময় সমর্থনও জুগিয়েছেন মন খুলে। কিন্তু এবার আর পারলেন না। খেলা শেষ হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গেই স্টেডিয়ামের মূল ফটকে ঘিরে ধরেন ক্লাবের কর্মকর্তাদের। ব্যাখ্যা চান এমন হারের, টাকা থাকার পর কেন এমন দল গড়া হলো সেই প্রশ্নও করেন তারা। কিন্তু নিশ্চুপ থাকেন টিম লিডার আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স ও ইমতিয়াজ সুলতান জনি।

জবাব না পেয়ে শুরু হয়ে যায় হাতাহাতি। লাঞ্ছিত হন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি শান্ত করতে শেষ পর্যন্ত পুলিশের আশ্রয় নিতে। পুলিশি পাহারায় এক সিলভার কালারের মাইক্রোবাসে চড়ে কোনোমতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন প্রিন্স-জনিরা। অথচ প্রথম সেমিফাইনালের বেশির ভাগ সময়ই আধিক্য দেখায় মোহামেডান। গোছালো ফুটবলে এগিয়ে যায় মাত্র পঞ্চম মিনিটেই। আলমগীর মোল্লার কর্নার থেকে হেডে রাজীবের হোসেনের কাছে বল দেন অ্যারন জন রিয়ারডনের। বা পায়ের দারুণ শটে সেটি জালে পাঠেন রাজীব।

এরপর থেকে বারবার রহমতগঞ্জ দুর্গে হানা দেয় সাদা কালোরা। কিন্তু হতাশ হয়ে ফিরতে প্রতিবারই। দুইবার রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক রাকিবুল হাসানকে একা পেয়েও গোল করার সুযোগ হারান শাহেদ মিয়া। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও খেলা দেখে মনে হচ্ছিল মোহামেডানই জিতবে। রহমতগঞ্জকে কোনো ছাড় দেয়নি। কিন্তু ৬৭ মিনিটে বিপদ টেনে আনেন মেসিডোনিয়ান ডিফেন্ডার ইয়াসমিন মেসিনোভিকি। মাঝমাঠে রহমতগঞ্জ ফরোয়ার্ড আদজাহকে ফাউল করলে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। কিন্তু রেফারির সঙ্গে উলটো তর্কে জড়াল লাল কার্ড পেয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।