সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১২ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

‘কাজাখস্তানে দাঙ্গার নেপথ্যে প্রেসিডেন্ট’ 

আপডেট : ০৭ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৫৭

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির জেরে কাজাখস্তানে চলমান বিক্ষোভ অব্যাহত। এনিয়ে সর্বশেষ দেশটির প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ সেনাদের নির্দেশ দিয়েছেন কোন ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে।  
 
কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ বলেছেন '২০ হাজার দস্যু' দেশটির প্রধান শহর আলমাটিতে হামলা চালিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এই শহরটিতেই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। 

আল জাজিরার ফ্রিল্যান্স সংবাদদাতা রবিন ফরেস্টিয়ার-ওয়াকার জর্জিয়া থেকে রিপোর্টে বলেছেন, কাজাখস্তানে বিক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটতো না যদি প্রসিডেন্ট তোকায়েভ এবং তার প্রশাসন গণতান্ত্রিক সংস্কারের বিষয়ে সংলাপে নিযুক্ত থাকত। কেননা তিনি এর অঙ্গীকার করেছিলেন। 

মধ্য এশিয়ার বিষয়ে এই বিশেষজ্ঞ রবিন আরো বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তিনি বাস্তবে খুবই কম করেছেন।  

এর আগে তোকায়েভ এই হামলার জন্য, বিদেশী প্রশিক্ষিত 'সন্ত্রাসীদের' দায়ী করেছেন। তবে তিনি এক্ষেত্রে কোন প্রমাণ দেননি। 

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর কাজাখস্তান ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করে। দেশটি যখন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অংশ তখন ১৯৮৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন নুর-সুলতান নজরবায়েভ। তখন থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কাজাখস্তানের শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখেন।

এরপর এক নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি দেশের প্রেসিডেন্ট হন, যে নির্বাচনে কেউ তাকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করতে পারেনি।  

বহু বছর শাসনের পর নজরবায়েভ ২০১৯ সালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। সে সময় তার বিরুদ্ধে বিরল এক গণবিক্ষোভ হয়েছিল। ধারণা করা হয় এই পদত্যাগের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে ক্ষমতায় না থাকলেও নজরবায়েভ লোকচক্ষুর অন্তরালে খুবই প্রভাবশালী। 

এরপরেই হঠাৎ করে ডাকা এক নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসেন নজরবায়েভের পছন্দের প্রার্থী কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। ঐ নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বহু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক প্রবল সমালোচনা করেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কাজাখস্তানে আসলে নির্বাচন-ভিত্তিক গণতন্ত্র নেই, কারণ বহু দশক ধরে সে দেশে ভিন্নমত তৈরি হলে সেটি অঙ্কুরেই বিনষ্ট করা হতো। তথ্যসূত্র: বিবিসি, আল জাজিরা। 

 

 

ইত্তেফাক/এসআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন