২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার পরে লাহোরের লায়ালপুর জেলখানার বন্দিজীবনভিত্তিক কাহিনি নিয়ে যাত্রাপালা ‘নিঃসঙ্গ লড়াই’ এর প্রথম মঞ্চায়ন হয়ে গেল গতকাল। যাত্রা পালাটির রচয়িতা মাসুম রেজা আর নির্দেশনা দিয়েছেন সাইদুর রহমান লিপন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্হাপনায় নতুন এ পালাটি মঞ্চে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন যাত্রাপালার স্বনামধন্য অভিনয় শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে এর প্রথম মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার একই মঞ্চে এর দ্বিতীয় মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনের আগে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবনকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রামবাংলার চিরায়ত পালার ধাঁচে পৌঁছে দিতেই এ আয়োজন। দেশের নানাপ্রান্ত থেকে যাত্রাশিল্পীরা অভিনয় করছেন এই যাত্রাপালায়। তাদের অভিনয়ে ঋদ্ধ হয়েছে এই প্রযোজনাটি।
নাটকটিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিঠুন ইসলাম টিসু্য, ইয়াহিয়া—এস এম শফি, জুলফিকার আলী ভুট্টো—আফসারুজ্জামান রনি, ব্যারিস্টার ব্রোহি—মোস্তফা জাফরুল আজম, রাজা খান—সাখাওয়াত হোসেন সেলিম। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাহুল মজুমদার, শান্তনু সাহা, শাহ মো. রইচ উদ্দীন আশীষ, আবুল কালাম আজাদ, পরিতোষ কুমার সাহা, লিয়াকত হোসেন, কাজী রফিকুল ইসলাম, মো. তাহাজ উদ্দীন, মো. সানাউল্লাহ, আসকার আলী ওয়াসিম, তুষার কান্তি মল্লিক, হরেন্দ্রনাথ মণ্ডল, শিশির রহমান, জহির রায়হান, শাহানাজ পারভীন, লিপি শর্মা, ঝুমা তরফদার, স্বপ্না বিশ্বাস, মিলিতা সরকার, অনুরাধা মন্ডল, মুনজেরিন বিনতে সিথি, হুমায়রা জাহান নীড়, উজমা হাসান, লিপি পাল, শান্ত মানুষ, নাজমুল সরকার নিহাত, রেফাত হাসান সৈকত, প্রাঞ্জল রায়, অনিক দাস, জিসান আহমেদ প্রমুখ।
লায়ালপুর জেল। ২৫ মার্চ রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পরে লাহোর থেকে ৮০ মাইল দূরে এই জেলে বঙ্গবন্ধুকে রাখা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পরেও তিনি বন্দি থাকেন পশ্চিম পাকিস্তানের জেলে। বিচার নামের এক প্রহসন মঞ্চস্হ হয় বঙ্গবন্ধুর এই জেলজীবনে। পৃথিবীতে আর কোথাও কোনো নেতার এ রকম হাস্যকর সাজানো বিচার হয়েছে কি না, ইতিহাসে তার সাক্ষ্য মেলা ভার। সাক্ষীরা সব মিথ্যে সাক্ষী দিয়েছে। বিচারের রায়ে বঙ্গবন্ধুর ফাঁসির আদেশ ঘোষণা করা হয়। তাকে লায়ালপুর জেল থেকে নেওয়া হয় মিয়াঁওয়ালি জেলে, যেখানে তার ফাঁসি কার্যকর করা হবে। কবর খোঁড়া হয় তার জন্য। বঙ্গবন্ধু সেই কবর খোঁড়া দেখতেও পান। তিনি মৃতু্যকে ভয় পাননি। কেবল বলেছিলেন, তার লাশটা যেন তার দেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এদিকে দেশ স্বাধীন হয় আর বিশ্বনেতৃত্বের চাপে বন্ধ হয়ে যায় ফাঁসি কার্যকরের আয়োজন। পাকিস্তানের জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ইংল্যান্ড ও ভারত হয়ে ১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন বঙ্গবন্ধু।

কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে করে বিপাকে অপূর্ব!