চমেক হাসপাতালে সার্জারি চিকিত্সায় নানা সমস্যা

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৫৪

চট্টগ্রাম মেডিক্যালে সার্জারি ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ| চাপের কারণে অপারেশনের সিরিয়াল পেতে রোগীদের এক থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে| চিকিত্সকরা জানান, সার্জারি রোগীর চাপ বাড়লেও তুলনামূলকভাবে অপারেশন থিয়েটার বাড়েনি| ওটিতে চিকিত্সা সরঞ্জামেরও স্বল্পতা রয়েছে| রয়েছে অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেস্থেসিয়া মেশিনের সংকট| অধিকাংশ ওটি টেবিল ও লাইট জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে| ফলে রোগীদের সার্জারি চিকিত্সায় নানা সংকট দেখা দিয়েছে|

বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরকারিভাবে উন্নত চিকিত্সার একমাত্র চিকিত্সা কেন্দ্র চমেক হাসপাতাল| ৫ কোটি জনগোষ্ঠীর জন্য এই সরকারি হাসপাতালটিতে প্রতিদিন আশ-পাশের বিভিন্ন জেলা থেকে অসংখ্য জটিল রোগীরা ভিড় করে| ১ হাজার ৩৫০ শঘ্যার হাসপাতালে ৩ হাজারের কাছাকাছি রোগী ভর্তি থাকে| চমেক হাসপাতালে সার্জারি ১৬ পৃষ্ঠার পর ওয়ার্ডে জায়গা না হওয়ায় রোগীদের ফ্লোরে ও বারান্দায় রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে| বিশেষ করে সার্জারির তিনটি ওয়ার্ডে প্রচুর রোগী ভর্তি রয়েছে| পর্যাপ্ত অপারেশন থিয়েটার না থাকায় রোগীদের সপ্তাহে দুই/এক দিন ভাগ করে সার্জারি করা হচ্ছে| ফলে সার্জারির এক জন রোগীকে সিরিয়াল পেতে এক থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হয়| এতে অনেক রোগীর অবস্হা জটিল হয়ে পড়ছে| 

সার্জারি বিভাগের চিকিত্সকরা জানান, হাসপাতালটিতে সব মিলিয়ে ১৮টি অপারেশন থিয়েটার রয়েছে| গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার রোগীর অপারেশন করা হচ্ছে| তার পরও রোগীর চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না| সরকারিভাবে এ অঞ্চলে অপারেশন করার মতো আর কোনো হাসপাতাল নেই| রোগীর তুলনায় হাসপাতালে ওটি, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট, নার্স, অ্যানেস্হেসিয়া মেশিনের স্বল্পতা রয়েছে| বিশেষ করে অ্যানেস্থেসিয়া মেশিনের চরম সংকট দেখা দিয়েছে| গত দুই/তিন বছরের মধ্যে নতুন কোনো অ্যানেস্থেসিয়া মেশিন সরবরাহ পাওয়া যায়নি| 

অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিত্সকরা জানান, অ্যানেস্হেসিওলজিস্টের অনুমোদিত পদ রয়েছে ২০টি| এদের মধ্যে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক রয়েছে ১০ জন| তাদের অপারেশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ক্লাসও নিতে হয়| ওটির সঙ্গে আইসিইউ ওয়ার্ডও চালাতে হচ্ছে| বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশিদ বলেন, অপারেশন কাজের জন্য ওটি, নার্স ও অন্য জনবলের স্বল্পতা রয়েছে| জনবল ও ওটি আরো বাড়ানো প্রয়োজন| অ্যানেস্থেসিয়া মেশিনের স্বল্পতা রয়েছে| জেনারেল সার্জারি ওয়ার্ড রয়েছে তিনটি| প্রতিটি ওয়ার্ডে ১০০ র কাছাকাছি রোগী ভর্তি থাকে| ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশ জটিল অপারেশনের রোগী| প্রাইভেট হাসপাতালে গিয়ে অপারেশন করার সামর্থ্য না থাকায় সিরিয়ালের জন্য হাসপাতালের বিছানায় দিনের পর দিন অপেক্ষা করছে| 

ইউরোলজি বিভাগের একজন চিকিত্সক জানান, তার ইউনিটে অনুমোদিত সিট আছে ১৮টি| অথচ বর্তমানে ৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি আছে| সপ্তাহে চার দিন ওটির সুযোগ পাওয়া যায়| ওটিতে কোনো সরঞ্জাম নষ্ট হলে মেরামতের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়| সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান বলেন, অপারেশনের রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি| এই অবকাঠামোগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে| 

চিকিত্সকরা জানান, চমেক হাসপাতালে অপারেশনের যে পরিমাণ রোগী বহির্বিভাগে আসে তার অর্ধেকও ভর্তি করা হয় না| চমেক হাসপাতালে অপারেশন করতে সময় বেশি প্রয়োজন হবে সুবিধা কম ইত্যাদি নানা কথা বলে বহির্বিভাগে অবস্হানরত দালালরা রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে| তবে রোগী ভাগানোর সঙ্গে সার্জারি বিভাগের চিকিত্সকদের যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে| চমেক হাসপাতালে ২০০৫ সালে আইসিইউ বিভাগ চালু করা হয়| বর্তমানে ১৮টি আইসিইউ বেড রয়েছে| কিন্তু দীর্ঘ ১৬/১৭ বছরেও আইসিইউ ওয়ার্ডের জন্য চিকিত্সক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের পদ সৃজন করা হয়নি| আইসিইউতে কমপক্ষে ৬৪ জন নার্সের প্রয়োজন আর আছে ৩৮ জন| 

ইত্তেফাক/ ইআ