নিকলী উপজেলার হাওরে শীতের সবজি চাষ ও পরিচর্যায় ব্যস্ত রয়েছেন চাষিরা। অনেক চাষি ইতিমধ্যে আগাম জাতের সবজি খেত থেকে উঠিয়ে বিক্রি করে আবারো ঐ জমিতে সবজি চাষ শুরু করছেন। সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। এদিকে, নিকলীর চিচিংঙ্গা ও করলা বিষমুক্ত হওয়ায় ইউরোপে পাঠানো হচ্ছে বলে কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নিকলী সদরের কালারামের হাটি গ্রামের চাষি দুলাল মিয়া তার এক একর জমি থেকে আগাম জাতের লালশাক, টম্যাটো, বেগুন, কাঁচা মরিচ ও মুলা উঠিয়ে আবারো সেই জমিতে শীতের সবজি চাষ শুরু করেছেন। এবার তিনি ঐ জমিতে বেগুন, মরিচ, টম্যাটো ও লালশাক আবাদ করছেন। চাষি দুলাল মিয়া জানান, মাত্র ৬৫ হাজার টাকা খরচ করে আগাম জাতের লালশাক ও মুলা চাষ করেন। এসব বিক্রি করে তিনি এবার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় করেছেন। এরপর ঐ জমিতে আবারো সবজি চাষ শুরু করেছেন বলে জানান তিনি।
দুলাল মিয়া আরো জানান, এবার অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে আগাম জাতের শীতের সবজি করতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। একই এলাকার চাষি আব্দুল রশিদ ২০ শতক জমিতে মুলা, বেগুন, মরিচ ও করলা চাষ করেছেন। এখন তিনি সবজিখেতের পরিচর্যা করছেন। চাষি আব্দুল রশিদ জানান, সবজি চাষ করে প্রতি বছর তিনি ৩০-৪০ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। এবারো সবজি চাষ করেছেন। তবে বৃষ্টির জন্য এবার আগাম জাতের সবজি চাষ করতে পারেননি। লাভজনক হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা সবাই কিছু না কিছু সবজি চাষ করে থাকেন। এখানকার সবজি ঢাকাসহ সারা দেশে ছড়িয়ে যায় বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি শীতের মৌসুমে উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার ১ হাজার ২৫০ একরের বিপরীতে ১ হাজার ১২৫ একর জমিতে এখন পর্যন্ত কৃষকরা সবজি চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন জানান, শীতের সবজি চাষ করতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে কৃষি অফিসাররা কৃষকদের পরামর্শসহ কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকেন। লাভজনক হওয়ায় এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েও অতিরিক্ত শীতের সবজি চাষ হবে বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, নিকলীর চিচিংঙ্গা ও করলা বিষমুক্ত হওয়ায় এক্সপোর্ট-ইমপোর্টের লোকজন নিকলীতে এসে জমি থেকে কিনে সরাসরি ইউরোপে পাঠাচ্ছেন।
