ওরা পাঁচ বন্ধু। দুই মোটরবাইকে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে চলে আসেন চকবাজারের চুড়িহাট্টায়। আর তখনই ঘটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এক বাইকের তিনজন ফিরে আসলেও অপর বাইকের দুই বন্ধু ফিরে আসেননি। এর মধ্যে এক বন্ধুর লাশ উদ্ধার হয়েছে। তার নাম আরাফাত (২২)। আরেক বন্ধু তানজিল হাসান খান রোহানের এখনও সন্ধান মিলেনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের সামনে রোহানের স্বজন, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই মেধাবী রোহান। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে ইংলিশ বিভাগের ফার্স্টবয় ছিল। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বিবিএতে ভর্তি হয়েছিল। রোহানরা তিন ভাই, এক বোন। মার্চের ১০ তারিখে বোনের বিয়ে। এর পর কথা ছিল অস্ট্রেলিয়া যাবে পড়তে। সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়েছে আগুনের তাপে।
পুরান ঢাকার আগামাসি লেন এলাকার বাসিন্দা তানজিল হাসান খান রোহান। তার আরো চার বন্ধু লাবিব, সোহাগ, রামিজ ও আরাফাতও একই এলাকার বাসিন্দা। এই পাঁচজন যাকে বলে হরিহর আত্মা। সবসময় একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া তাদের নৈমিত্তিক ঘটনা। ঠিক সেভাবেই বুধবার রাতেও চার বন্ধুর সঙ্গে বেরিয়েছিল রোহান।
বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে লাশের ভিড়ে আরাফাতের মরদেহ শনাক্ত করেন স্বজনরা। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত রোহানের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার খোঁজে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গের সামনে থেকে নড়ছেন না বন্ধু লাবিব, রোহানদের বাড়িওয়ালার ছেলে সাগর। তিনিও রোহানদের বন্ধু।
