নোয়াখালীতে থানার বেষ্টুনির মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এক যুবতীতে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলার পর গ্রেফতারকৃত জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক কনস্টেবল (মুন্সি)সহ ৪ জনকে নোয়াখালীর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মাদলা গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে ও নোয়াখালী জেলার সদর ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল (কং/২৬৪) মকবুল হোসেন (৩২), বেগমগঞ্জ উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের মৃত আমান উল্যার ছেলে সিএনজি চালক মো. কামরুল (২৫), সদর উপজেলার দাদপুর গ্রামের মৃত মফিজ উল্যার ছেলে আবদুল মান্নান (৪৯), বেগমগঞ্জ উপজেলার অনন্তপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে নুর হোসেন কালু (৩০)।
এদিকে, শনিবার (৮ জানুয়ারি) বিকেলে নোয়াখালীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুর জাহানের আদালতের ভিকটিম ২২ ধারায় দীর্ঘ জবানবন্দি দিয়েছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ জবানবন্দি চলে। ভিকটিমের জবানবন্দিতে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, ভিকটিমের শনিবার নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভিকটিমের শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্নের কথা থাকলেও ভিকটিমের অনীহার কারণে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়নি।
শুক্রবার অভিযুক্ত চারজনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিমের মা হাজেরা বেগম বাদি হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকালে সুধারাম থানার বেষ্টুনির মধ্যে জেলা ট্রাফিক পুলিশের কোয়ার্টারে বাবুর্চি আবুল কালামের রুমে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই অভিযুক্ত চারজনকে আটক করে পুলিশ। ভিকটিম নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার আটিয়া বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মিজানুর রহমান পাঠান জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে ভিকটিম ঢাকা থেকে ব্যক্তিগত কাজে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে আসেন। জেলা শহরে অবস্থানকালে তার টাকা পয়সার সংকট দেখা দিলে ভিকটিম তার পূর্ব পরিচিত সিএনজি চালক মো. কামরুলের সাথে দেখা করে। এক পর্যায়ে কামরুল ও তার দুই সহযোগী আবদুল মান্নান ও নুর হোসেন কালু ভিকটিমকে সদর ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল (মুন্সি) মকবুল হোসেনের কাছে নিয়ে যায়। এসময় তাদের সহযোগিতায় মুন্সি মকবুল হোসেন ভিকটিমকে ট্রাফিক পুলিশের বাবুর্চি আবুল কালামের রুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনার পরপরই ভিকটিম পাশের সুধারাম থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাহেদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে জানান, এই ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদি হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার ৪ আসামিকেই গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
