সরকারের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের ফলেই মানুষের এমন প্রাণহানি ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর পর এ মন্তব্য করেন তিনি। চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এমন ঘটনার দায় সরকার এড়াতে পারে না।
মির্জা ফখরুল এসময় আরো বলেন, আমাদের গণতান্ত্রিক যে চেতনা, যে চেতনার ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন হয়েছিল; পরবর্তীতে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেই চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত। আমরা গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। গোটা জাতি আজ তার মৌলিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে গণতন্ত্রের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
একুশের শহীদসহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা উর্দুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং আমাদের বীর ছাত্ররা সেদিন মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। এরই ফলশ্রুতিতে আমরা মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষায় পরিণত করতে পেরেছি। এর আগে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে নেতারা সকাল ৮টায় আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
বিচার বিভাগীয় তদন্তের
দাবি ড. কামালের
চকবাজারে আগুনের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান। অন্যদিকে, এক বিবৃতিতে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু আগুনের ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন ও তাদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর দাবি জানান।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মকবুল আহমাদ এক বিবৃতিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশবাসী এর আগেও লক্ষ্য করেছে যে, পুরান ঢাকায় কেমিক্যালের গোডাউনে আগুন লেগে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। তখনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছিল; কিন্তু সেই তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে, একই ঘটনায় যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে দেওয়া এক শোকবাণীতে বি. চৌধুরী বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা জেনে আমি দুঃখিত ও মর্মাহত। আমি নিহতদের রূহের মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।
