শীতকালীন প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সারা দেশে স্ব-স্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন হয়েছে সেনাসদরসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব ফরমেশন। করোনা মহামারির কারণে অপারেশন কোভিড শিল্ড এ মোতায়েন হওয়ার জন্য গত বছর এই প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রায় শতভাগ সেনাসদস্যের অংশগ্রহণে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে চার সপ্তাহের জন্য নতুন উদ্যমে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এবারের শীতকালীন প্রশিক্ষণে সেনাবাহিনী সদর দপ্তর বহিরাঙ্গনে এসে পূর্ণাঙ্গরূপে অনুশীলন করছে। প্রথমবারের মতো এবার যুদ্ধক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লজিস্টিক্সের ওপর ফিল্ড ট্রেনিং এক্সারসাইজ (এফটিএক্স) পরিচালনা করা হচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণে সড়কপথের পাশাপাশি আকাশপথ, নদীপথ ও রেলপথে সফলভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে রসদ সম্ভার পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া, সেনাবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় সব ফরমেশনের মধ্যে ওয়্যারলেস, ভিস্যাট ও ইন্টারনেট কমিউনিকেশন স্থাপন করা হয়েছে। ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আলোকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নতুন সংযোজিত অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামের কৌশলগত ব্যবহারও এবারের শীতকালীন প্রশিক্ষণে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এসব কারণে এবারের শীতকালীন প্রশিক্ষণ অনেক বেশি অভিনব ও বাস্তবধর্মী। দেশের সেবায় নিজেদের প্রস্তুত করে তুলতে সরেজমিনে বাস্তবধর্মী বিভিন্ন সামরিক বিষয় অনুশীলনের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন সাধন করাই মাসব্যাপী পরিচালিত এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য । এবারের অনুশীলনে সেনাবাহিনীর প্রধান, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারবৃন্দ, জিওসি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড, কমান্ড্যান্ট ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিভিন্ন ফরমেশনে অনুশীলন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং তাৎক্ষণিক দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।
কঠোর প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সার্বিকভাবে একটি বিশ্বমানের বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে বলে সেনাবাহিনীর প্রধান আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শীতকালীন প্রশিক্ষণ শেষে আগামী ১৪ জানুয়ারি সেনানিবাসে প্রত্যাবর্তন করবেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
