শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে

করোনার কথা বলছে ইউজিসি, অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা বলছেন আস্থা সংকট

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ১১:০২

দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ২০২০ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০১৩ সালের শিক্ষার্থীর সমান। অথচ এই সাত বছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বেড়েছে ৪১টি। অন্যদিকে একই সময়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে দ্বিগুণ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ২০২০ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আগের চেয়ে কমার কারণ হিসেবে করোনা মহামারির কথা বলেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মনে করেন, করোনার কারণে ২০২০ সালের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে পারে। ধারাবাহিকভাবে টানা তিন বছর ধরেই শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমশ কমছে। ঐ সময় তো করোনা মহামারি ছিল না।

তারা মনে করেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, অত্যধিক মুনাফা লাভের বিষয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা বিরক্ত। এ কারণে শিক্ষার্থীরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা হারিয়েছে। একপ্রকার বাধ্য হলেই কেবল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয় শিক্ষার্থীরা। এ কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

ছবি: ইত্তেফাক

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৮ হাজার ৭৩৬ জন। ২০২০ সালে এসে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জনে। টানা তিন বছরের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ছিল ৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৯২ জন, ২০১৯ সালে কমে হয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার। আর ২০২০ সালে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬৮৯ জন। ২০১২ সাল পর্যন্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল ৬৬টি। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৮টি। এই সাত বছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বেড়েছে ৪২টি। যদিও সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এতসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বাড়লেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়নি বরং কমছে, যা নিয়ে নানা মত রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। 

আমিরুল ইসলাম নামে একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমরা নিতান্তই বাধ্য হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। হাতেগোনা কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে আগ্রহ রয়েছে। এর বাইরে বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে আগ্রহী নয়। অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত ল্যাবরেটরি, যোগ্য শিক্ষক নেই। 

জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, যারা প্রকৃত অর্থে লেখাপড়া করতে চায় তারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় না। যখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়, তখন সেখানে ভর্তিতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ থাকে না।

আজিজুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, নামি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যখন গণমাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের রিপোর্ট প্রকাশ হয়, তখন আমরা আর কোথায় যাব। এই অর্থ তো আমাদের। শিক্ষার্থীদের দেওয়া অর্থ এভাবে লুটপাট হয় বলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আমাদের আস্থা কমে যাচ্ছে। সরকারের কঠোর মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে মনে করেন এই অভিভাবক। 

রাজধানীর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘প্রাইম ইউনিভার্সিটির’ ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, নিয়ম না মেনে যেখানে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে। এটা এই সেক্টরের জন্য ভালো নয়। অধিকাংশই শিক্ষার্থীদের আস্থায় আনতে পারেনি। 

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. বিশ্বজিৎ চন্দ বলেন, ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালের শিক্ষার্থী কমার কারণ করোনা সংক্রমণ। এছাড়া অন্যান্য বছরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, যখন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনসংখ্যা বাড়ে, তখন শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। 

তিনি বলেন, অতীতে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকগুলো শাখা ক্যাম্পাস ছিল, যেগুলো অবৈধভাবে চলছিল এবং শিক্ষার্থী ভর্তি করত। এ কারণে অতীতে হয়তো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি মনে হতো। ঐ সময় শিক্ষার্থী সংখ্যার হিসাব নিয়েও তথ্য বিভ্রাট ছিল বলে তিনি মনে করেন। 

ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক ওমর ফারুখ বলেন, আমরা শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে অনুমোদিত আসনের প্রতি নজর দিয়েছি। নির্ধারিত আসনের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছি। 

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে ১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। 

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৩ সালে শিক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ২০ হাজার। ২০২০ সালে এসে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩ লাখ ৬২ হাজার। সাত বছরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। করোনাকালেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। ২০১৯ সালের চেয়ে ২০২০ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬ শতাংশ বেশি ছিল। 

ইত্তেফাক/এএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার প্রাথমিক আবেদন শুরু

সালাম না দেওয়ায় জুনিয়রকে ছাত্রলীগকর্মীর থাপ্পড়!

এনসিটিবির চেয়ারম্যান হলেন ফরহাদুল ইসলাম

থানা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত তিতুমীর কলেজ অধ্যক্ষ তালাত সুলতানা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ওআইসির ‘ডিশটিংগুইশড স্কলার’ মনোনীত হলেন ড. হাফিজুর রহমান

শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া!

জাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি

৫০ টাকা করে মনিটর বিক্রি করে শোকজ খেলেন ইবির ৪ কর্মকর্তা