ক্লাব ফুটবলে ছোট দল হিসেবেই মানা হয় রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে। মাঝেমধ্যে অঘটন ঘটানোর নজির আছে বটে। যার অন্যতম শিকার আবাহনী লিমিটেড। ২০১৯-২০২০ মৌসুমে কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের টাইব্রেকারে ১ (৪)-১ (৩) হারিয়েই সেমিফাইনালে ওঠেছিল রহমতগঞ্জ। পরে ফাইনালেও ওঠে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। কিন্তু বসুন্ধরা কিংসের কাছে মাটি হয় তাদের স্বপ্ন।
এক আসর পর আবারও ফেডারেশন কাপের ফাইনালে রহমতগঞ্জ। এবার প্রতিপক্ষ আসরের সর্বোচ্চ ১১ বারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। ৪৫ বছর আগে ১৯৭৭ সালে এই আবাহনীর সঙ্গেই নিজেদের প্রথম ফাইনাল খেলেছিল তারা। কিন্তু অভিজ্ঞতাটা সুখকর ছিল না। গতকাল ফেডকাপের ফাইনাল পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপের গল্পটাই প্রথম ওঠে এলো রহমতগঞ্জের ম্যানেজার হাজী সাফি মাহমুদের কণ্ঠে।
চলতি মৌসুমের পারফরম্যান্স কিংবা অতীত ইতিহাস বিবেচনায় ফেভারিটের খাতাটা আবাহনীর দখলে। সেটা মানছে রহমতগঞ্জও। কিন্তু আজ কমলাপুর স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যেই মাঠে নামার হুঙ্কার দিলেন রহমতগঞ্জের অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান কিরণ, ‘আবাহনী আমাদের কাছে ফেভারিট। যেহেতু ফাইনাল ম্যাচ ভিন্ন ম্যাচ, ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে এসে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে চাই। আবাহনীর শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে কাজ করছি। জমজমাট লড়াই দেখতে পারবেন ইনশাল্লাহ। আমাদের প্রতিঘাত করার মানসিকতা আছে, আমরা দ্রুত কামব্যাক করতে পারি। সবাই ইতিহাসের অংশ হতে চাই।’
ছোট দল হলেও অন্তত ফাইনালের দিনে রহমতগঞ্জকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কোয়ার্টারে শেখ রাসেল, সেমিফাইনালে মোহামেডানের মতো বড় ক্লাবকে হারিয়েই ফাইনালে ওঠেছে তারা। তাই ফাইনাল নিয়ে বেশ সতর্ক আবাহনী কোচ মারিও লেমোস, ‘রহমতগঞ্জের কাছে হারটি আমার মনে আছে। আমি এগুলো ভুলি না। তাদের প্রতি আমার যথেষ্ট শ্রদ্ধা আছে। জিলানীকে (রহমতগঞ্জ কোচ) আমি ভীষণ শ্রদ্ধা করি। আমি মনে করি, সে চমত্কার একজন কোচ।’
স্বাধীনতা কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ফেডারেশন কাপেও দুর্বার আবাহনী। কিন্তু ম্যাচ বাই ম্যাচ ইনজুরির ঘটনায় জর্জর ক্লাবটি। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হৃদয়ের টুর্নামেন্ট আগেই শেষ। সুশান্ত ত্রিপুরা এবং দলের দুই বিদেশি খেলোয়াড় অধিনায়ক রাফায়েল অগুস্তো ও ডোরিয়েলটনের খেলা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। তাদের অভাব সেমিফাইনালে সাইফ স্পোর্টিংয়ে বেশ ভালোভাবেই বোধ করে আবাহনী। বিশেষ করে, মাঝমাঠে যদিও টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।
লেমোস বলেন, ‘চোট নিয়ে আমি খুব বেশি চিন্তিত নই। আমি মনে করি, কঠিন ম্যাচগুলো খেলোয়াড়দের পরখ করে নিতে আরো সাহায্য করে। মাঝমাঠে বড় কোনো সমস্যা আছে বলে মনে হয় না। যদি ওরা ভালো বোধ করে খেলবে।’

