থাই সীমান্তে মিয়ানমারের হাজারো মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০২২, ১০:১১

মিয়ানমারের হাজারো মানুষ থাইল্যান্ড সীমান্তে মোয়ে নদীর পাড়ে তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ভয়ে তারা বাড়ি ফেরার সাহস পাচ্ছে না। তাদের দাবি, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাদের গ্রামের ওপর বোমাবর্ষণ করায় তারা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ নদী পাড়ি দিয়ে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু সেখানে শরণার্থী শিবিরগুলোর করুণ দশায় টিকতে না পেরে অনেকে নদীর এপারে মিয়ানমারের অংশে ফিরে গিয়েছেন।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী গত বছর নির্বাচিত সরকারকে উত্খাত করে দেশটির ক্ষমতা দখল করে। তারপর থেকে স্হানীয় নানা সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যু্দ্ধ চলছে। হাজার হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নিজ বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। উদ্বাস্তু ঐসব মানুষের জন্য আরো বেশি সহায়তা দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। শুক্রবার থাইল্যান্ডের অংশে মোয়ে নদীর পাড় থেকে ওপাড়ে মিয়ানমারের অংশে চারটি জায়গায় অন্তত ২ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে আশ্রয় নিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা তারপুলিনের তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ত্রাণের খাবার ও পানি সংগ্রহ করতে নদী পেরিয়ে থাইল্যান্ডের অংশে আসা ৪২ বছরের সাবাল ফিউ বলেন, ‘ওখানে (থাইল্যান্ডের অংশে) আমাদের ভালোই ত্রাণ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে ভিড় এত বেশি যে জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে আমাদের স্বাধীনতা বেশি।’ স্বামী এবং চার সন্তান নিয়ে সাবাল প্রথমে থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু থাইল্যান্ডের মায়ে সত শহরের কাছে অন্য শরণার্থীদের সঙ্গে গবাদি পশু রাখার একটি খালি গোয়ালে তারা আশ্রয় নিয়েছিল।

রেড ক্রসের তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমারের প্রায় ৮ হাজার শরণার্থী থাইল্যান্ডে আশ্রয় নিয়ে আছে। থাইল্যান্ডের শরণার্থী শিবিরের অবস্হা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে থাই সরকারের মুখপাত্র বলেন, তার দেশ ‘মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভেতরে থেকেই শরণার্থীদের দেখভাল করছে।’ শরণার্থীদের ঠিকঠাক দেখভালের দাবি করলেও থাইল্যান্ড সরকার জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর প্রতিনিধিদের তার দেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। মিয়ানমার সরকারও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের ঢুকতে দিচ্ছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বিশ্বের মিয়ানমারের শরণার্থীদের প্রকৃত অবস্থা জানার সুযোগ হচ্ছে না। 

ইত্তেফাক/ ইআ