প্রত্যাশা বাড়িয়েছে এবারের মেলা

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০২:৪১

অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন মধ্যভাগ থেকে সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বইমেলার ইতিহাসে অন্যতম সফল ও পরিকল্পিত বইমেলা এটি। এবারের বইমেলার আয়োজন নিয়ে অনেকেই প্রশংসা করেছেন। বেড়েছে মেলার পরিসর, প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণ। মেলার টয়লেটের ব্যবস্থাও ছিল অন্যবারের চেয়ে ভালো। স্টলবিন্যাসে পরিবর্তন আসায় দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাও এখন পর্যন্ত ঘটেনি।

এবারের গ্রন্থমেলার প্রতিপাদ্য আমরা জানি, ‘বিজয়: ১৯৫২ থেকে ১৯৭১ নবপর্যায়’। এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভকে মেলা প্রাঙ্গণের ভেতরে রাখার সিদ্ধান্তটিও যথার্থ বলে মনে হয়েছে। স্বাধীনতা স্তম্ভের আলোক বিচ্ছুরণে মেলা প্রাঙ্গণের আলোকিত হওয়ার দৃশ্যটি আমরা উপভোগ করতে পারছি। সেই সঙ্গে লেকের স্বচ্ছ জলের পাশের বেঞ্চগুলোতে জিরিয়েও নেওয়া যাচ্ছে।

মেলায় এবার নতুন সংযোজন ‘লেখক বলছি মঞ্চ’। এতদিন মেলাটি ছিল প্রকাশকদের বাণিজ্যের জায়গা। লেখকদের নিজেদের কথা বলার কোনো মঞ্চ ছিল না। বিশেষ করে তরুণ লেখকদের। বইমেলায় লেখক-পাঠকের এ ধরনের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ঘটানোর আরও পন্থা অবলম্বন করা উচিত। বাংলা একাডেমির পাশাপাশি প্রকাশকরাও এ বিষয়ে উদ্যোগী হতে পারেন। নতুন লেখকদের উঠিয়ে আনার দায়িত্ব তাদের পালন করা উচিত নিজেদের প্রয়োজনেই।

এবারের মেলার আয়োজন আমাদের এমন আরও অনেক প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। মনে হয়েছে একটু চিন্তাভাবনা করে কাজ করলে এবং সদিচ্ছা থাকলে পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব। এবারও মেলায় আমরা দেখেছি শেষ মুহূর্তে মেলাপ্রাঙ্গণের কাজগুলো গোছাতে। মেলার দশম দিন পর্যন্ত কোথাও কোথাও ইট বিছানোর দৃশ্য চোখে পড়েছে। মাঝে মাঝে বসার জন্য কিছু বেঞ্চ থাকলে বয়স্ক মানুষদের কিংবা যারা শিশুদের কোলে নিয়ে হাঁটাচলা করেন তারা বিশ্রাম নিয়ে নিতে পারেন। লেখক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত মত, বহেরা তলার লিটল ম্যাগাজিন চত্বরটি সোহরাওয়ার্দী প্রাঙ্গণে ‘লেখক বলছি’ মঞ্চের পাশে চলে আসতে পারে। ওখানে খাবারের জায়গাটি সরে অন্যপাশে চলে যেতে পারে। ১৮০টি লিটল ম্যাগাজিনকে ১৫৫টি স্টল দেওয়া হয়েছে এবার। আমার মনে হয় এ সংখ্যা আরও কিছুটা কমানো যায়। এতে মানসম্মত পত্রিকাগুলোই কেবল স্থান পাবে। ‘শিশু চত্বর’ খুব অল্প জায়গা নিয়ে হয়েছে। শিশুদের ছুটোছুটির কোনো জায়গা নেই ভেতরে। আরেকটু বিস্তৃত হলে ভালো হয়।

আরও পড়ুন: এটি কেমিকেলের অগ্নিকাণ্ড নয়, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: শিল্পমন্ত্রী

অমর একুশের গ্রন্থমেলার এবারের আয়োজনের প্রাপ্তি হয়ত কম না, কিন্তু আমাদের আরো অনেক প্রত্যাশা এ আয়োজনকে ঘিরে। মেলায় আমাদের সকলের যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটুক, এটাই চাওয়া।

লেখক: কথাসাহিত্যিক-প্রাবন্ধিক-অনুবাদক

ইত্তেফাক/আরকেজি