করোনার টিকা দিতে ব্যতিক্রম উদ্যোগ

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৪৬

নগরীতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার টিকা দিচ্ছেন রংপুর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা। ভ্রাম্যমাণ এই টিকাদান কার্যক্রম সোমবার চালু হয়েছে নগরীর পূর্ব খাসবাগ এলাকায়। সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মীরা মোটরসাইকেলে করে করোনার টিকা নিয়ে ছুটছেন বাড়ি বাড়ি। সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার এই উদ্যোগ নগরীতে বেশ সাড়া ফেলেছে।

রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের ২০৫ বর্গকিলোমিটার এলাকায় করোনার টিকাকেন্দ্র আছে মাত্র ছয়টি। দূর-দূরান্তের মানুষ টিকাকেন্দ্রে কষ্ট করে গিয়ে টিকা নিতে চান না। দূরত্বের কারণে কেউ যেন করোনার টিকার আওতার বাইরে না থাকে এজন্যই ভ্রাম্যমাণ টিকাদান কার্যক্রম সোমবার থেকে চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন স্বাস্থ্যকর্মীদের চারটি দল করোনার টিকা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাবেন। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ফোন নম্বর দিয়ে অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে তাৎক্ষণিক নিবন্ধন করে সেখানে টিকা দেওয়া হবে। অনলাইনে টিকার নিবন্ধন কিংবা এসএমএসের অপেক্ষায় থাকতে হয় না বলে মানুষ আগ্রহ নিয়ে টিকা নিচ্ছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী সুজন ইসলাম বলেন, স্বেচ্ছাসেবক সঙ্গে নিয়ে করোনার টিকা দিতে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জনগণকে টিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের এ কার্যক্রমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুব সহজ হওয়ায় মানুষ নিজ ইচ্ছায় এসে টিকা দিচ্ছেন। আর মানুষের মুখে মুখে প্রচার হওয়ায় তারা কোনো এলাকায় গেলেই মানুষ টিকা নেওয়ার জন্য ভিড় করছেন।

করোনার টিকাগ্রহণকারী আঁখি বেগম (৩৭) বলেন, নানা সমস্যায় প্রথম ডোজ টিকা নেওয়া হয়নি। এবার আর সুযোগ হাতছাড়া করলাম না।

প্রথম ডোজের টিকা নেওয়া রেজোয়ানা বেগম (৪০) ও নুরুন্নবী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্রের সমস্যার কারণে এত দিন টিকা নিতে পারেননি। তবে এবার সিটি করপোরেশনের লোকজন বাড়ির সামনে এসে খুব সহজেই টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তাজ জানান, বাড়ির কাছে টিকাকেন্দ্র না থাকায় অনেক মানুষ টিকা নেননি। অনেকেই জাতীয় পরিচয়পত্রের সমস্যার কারণে এখনো প্রথম ডোজের টিকা নেননি। প্রথম ডোজের টিকা থেকে কেউ যেন বাদ না পড়ে সেজন্য স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক পাঠানো হচ্ছে। এতে ব্যাপক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তারা ৬ হাজার ১৭৩ জনকে প্রথম ডোজের টিকা দিয়েছেন।