বুস্টার ডোজ নিলেন রাণীনগরের ২৬ হাজার মানুষ

আপডেট : ১২ জুন ২০২২, ১২:১৯

নওগাঁর রাণীনগরে সপ্তাহব্যাপী চলমান করোনার বুস্টার ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষিত হয়েছেন উপজেলার ২৬ হাজার ১৫০ জন মানুষ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে দেশব্যাপী করোনার টিকার তৃতীয় বা বুস্টার ডোজ সপ্তাহ শুরু হয় শনিবার (৪ জুন) থেকে। এদিকে, রাণীনগরে সপ্তাহ শেষ হয়েছে গত শনিবার (১১ জুন)। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেধে দেওয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষ বুস্টার ডোজের টিকা গ্রহণ করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি মানুষকে টিকা দিয়েছি। মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি হওয়ার কারণেই বুস্টার ডোজ নিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন উপজেলার মানুষ। সপ্তাহ চলাকালীন সময়ে প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বয়স্ক থেকে শুরু করে যাদের দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের পর তৃতীয় ডোজ গ্রহণের সময় হয়েছে, তারা সবাই হাসপাতালে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেছেন।’ 

মশিউর রহমান আরও বলেন, ‘এ ছাড়াও, বুস্টার সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার এই দুই দিন উপজেলার ওয়ার্ড পর্যায়ে মর্ডানা ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ডোজের টিকাদান কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শেষ করেছি। বুস্টার ডোজের সপ্তাহে পুরো উপজেলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লক্ষ্যমাত্রা প্রদান করা হয়েছে ২৪ হাজার ৯০০। আর মাঠ পর্যায়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ হাজার ৪০০। সেখানে মর্ডানার টিকা প্রদান করা হয়েছে ৭ হাজার ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা প্রদান করা হয়েছে ১১ হাজার ৯১০ জনকে।’

মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘সপ্তাহের প্রতিদিন হাসপাতালের তিনটি বুথ থেকে ফাইজারের তৈরি বুস্টার ডোজের টিকা প্রদান করা হয়েছে। যেসব শিক্ষার্থী পূর্বে গ্রহণ করেনি, তাদেরকেও প্রদান করা হয়েছে। যারা বুস্টার ডোজ গ্রহণের এসএমএস পেয়েছিলেন এবং যারা এসএমএস না পেলেও তৃতীয় ডোজ গ্রহণের সময় হয়েছিল তাদেরও বুস্টার ডোজের টিকা প্রদান করেছি। আগ্রহভরে উপজেলার মানুষ বুস্টার ডোজের টিকা গ্রহণ করায় অনেকটা সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে আমরা সবার সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে সপ্তাহটি শেষ করতে পেরেছি।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন অংকুর বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি মানুষকে বুস্টার ডোজের টিকা দিতে পেরে আমরা অত্যন্ত খুশি। হাসপাতালের সবার সহযোগিতার কারণেই বুস্টার সপ্তাহটি আমরা সুন্দর পরিবেশে শেষ করতে পেরেছি বলে জেলা, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ও সর্বোপরি উপজেলাবাসীকে জানাই ধন্যবাদ।’

ইত্তেফাক/মাহি