রাজধানীতে অনলাইন মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটা করে ৪৯ শতাংশ গ্রাহক অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। আর বাকি ৫১ শতাংশ গ্রাহক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে এরমধ্যে অনলাইন কেনাকাটায় পুরুষের চেয়ে নারীরা অধিক সন্তুষ্ট। দেশের নারী ক্রেতাদের মধ্যে ৬২ শতাংশ স্বস্তিতে থাকেন ও ৩৮ শতাংশ অস্বস্তিতে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষ ক্রেতাদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ স্বস্তিতে থাকেন ও ৫৭ শতাংশ অস্বস্তিতে থাকেন৷
এছাড়া অনলাইন লেনদেনে নয়টি সূচক নিয়ামকের ভূমিকা পালন করছে।
মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) গবেষণা প্ল্যাটফর্ম রিসার্চগেটে প্রকাশিত ‘ফ্যাক্টরস ডিটারমিনিং স্যাটিসফেকশন অব অনলাইন কাস্টমারস ইন ঢাকা সিটি, বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি গবেষণা নিবন্ধ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
গবেষণাটি ‘জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি জার্নাল অব বিজনেস রিসার্চের’ ২২ নম্বর ভলিয়্যুমে অন্তর্ভুক্ত। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্টেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক এস এম ইখতিয়ার আলম।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, অনলাইনে কেনাকাটায় নয়টি সূচক গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো-প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য দেওয়া, সশরীরে কেনাকাটার সঙ্গে অনলাইনে দামের সামঞ্জস্য, পণ্যের লিখিত ও দৃশ্যমান বিবরণ, গ্রাহক সেবা ও সমস্যা সমাধান, সময়মতো পৌঁছানো, ডেলিভারি মূল্য, দ্রব্য বা অর্থ ফেরত নীতিমালা, বিক্রেতা ও ডেলিভারি ম্যানের আচরণ এবং পণ্যের ওয়ারেন্টি সেবা গ্রহীতাদের সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে। এর মধ্যে, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য দেওয়ার সূচকটির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এরপর দামের সামঞ্জস্য এবং পণ্যের দৃশ্যমান ও লিখিত বিবরণী সূচক দু’টি ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, ঢাকায় অনলাইন কেনাকাটায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ পণ্য পায় ২২.৪৫ শতাংশ, গ্রহণযোগ্য মূল্যে কেনাকাটা করে ১৬ শতাংশ এবং বিবরণ অনুযায়ী পণ্য পান ১৪ শতাংশ অনলাইন ক্রেতা। যেখানে পণ্য ডেলিভারির মূল্য গড় পণ্য-মূল্যের ২২ শতাংশ।
এতে উল্লেখ করা হয়, সময়ের স্বল্পতা, অবস্থানগত সুবিধা এবং পণ্যের প্রকরণ ও ভিন্নতা এই তিনটি কারণে মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে। গত পাঁচ বছরে অনলাইনে কেনাকাটা বহুগুণ বেড়েছে। দেশে বর্তমানে ৬ হাজারের বেশি ‘সেলার রেটিংসহ’ সক্রিয় অনলাইন সাইট রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশের মেমবার রেকর্ড বুক অব মার্কেট প্লেসের তথ্য মতে, দেশে প্রায় ৪৫ হাজার অনলাইন বিক্রেতা আছে যারা অল্প কয়েক ধরনের পণ্য বিক্রি করে আসছে।
জানা যায়, বিভিন্ন বয়স, পেশা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থান থেকে উঠে আসা ক্রেতাদের ওপর জরিপ করে গবেষণা নিবন্ধটি পরিচালনা করা হয়। যারা কমপক্ষে এক বছর অনলাইনে কেনাকাটা করেছেন, এমন ১ হাজার ৫৬০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তাদের মধ্যে ৯৩৬ জন পুরুষ ও ৬২৬ জন নারী। তবে গবেষণায় শুধুমাত্র নন-ফুড পণ্য দ্রব্যকে বিবেচনা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অধ্যাপক এস এম ইখতিয়ার আলম ইত্তেফাককে বলেন, বিদেশে অনলাইন ব্যবস্থার সুফল দেখে দেশে একের পর এক অনলাইন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। তবে তারা পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণা করে যাচ্ছে। এর মধ্যে, ভালো মানের পণ্য দেখিয়ে খারাপ পণ্য দেওয়া, এমনকি পণ্যের পরিবর্তে ফাঁকা বাক্স হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও কম নয়। গ্রাহকদের সঙ্গে এমন প্রতারণা এক ধরনের অপরাধ। তবে এ বিষয়টি নিয়ে কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কাজ করছে না, এটা দুঃখজনক।
