ইসরায়েলের আইটি খাতের সবথেকে বড় ক্রেতা চীন। তা সত্ত্বেও চীনের প্রযুক্তি বাজারে বার বার হোঁচট খাচ্ছে ইসরায়েল। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে আবিবের প্রযুক্তিগত আধিপত্যকে অস্বীকার করছে বেইজিং।
টাইমস অফ ইসরায়েলের এক প্রতিবেদন অনুসারে ইসরায়েলের প্রযুক্তি এবং পণ্যের জন্য চীন একটি বড় বাজার এবং ইসরায়েল-চীন সম্পর্ক বরং সৌহার্দ্যপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে দুই দেশ। ইসরাইলের প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সঙ্গে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৭,১০০ কোটি ডলার।
এদিকে, চীন ইরানের অন্যতম বড় মিত্র ও বিনিয়োগকারী হওয়ায় ইসরায়েলের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়াও ইরান থেকে ২০২১ সালে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কিনেছে চীন। ২০১৮ সালের পর এটি ছিল ইরান থেকে চীনের সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল আমদানি করার রেকর্ড।
অন্যদিকে, ইসরায়েল সরকার মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছে যে তারা বেইজিংয়ের সাথে বড় বাণিজ্য চুক্তি করার আগে ওয়াশিংটনের অনুমোদন চায়।
এর আগে চীনের সঙ্গে ইসরাইলের বিকাশমান সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য তেল আবিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আবার ইসরায়েলের প্রযুক্তিখাতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। যাকে ইসরাইল বাণিজ্যিক বলে আখ্যায়িত করেছে। কিন্তু আমেরিকা বলছে, এগুলো সেনা গোয়েন্দা সংস্থা, উপগ্রহ যোগাযোগ এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে চীন।
ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতা হ্রাসের সম্ভাবনায় নতুন মিত্র সৃষ্টিতে আগ্রহী হয়ে উঠেছে ইসরাইল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠতে শুরু করে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র। সময়ের বিবর্তনে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে গেলে ক্ষমতার ভারসাম্য পশ্চিমের দিকে হেলে পরে। কিন্তু ইসরাইল বুঝতে পারছে চীন এই দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বাস্তবতা ভেঙ্গে পৃথিবীর সবথেকে শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে চাইছে। তাই পশ্চিমের সঙ্গে অসাধারণ সম্পর্ক থাকার পরেও দেশটি বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করে চলেছে।

