শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

কারাগারে কয়েদিদের ফোন সরবরাহ করেন কারারক্ষীরা

প্রমাণ পেয়েছে দুদক 

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৪:২৬




গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমন্টে টিম। অভিযানে কয়েদিদের কাছে কারারক্ষীদের যোগসাজশে ফোন সরবরাহ করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদকের টিম। বুধবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক সালাম আলী মোল্লার নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনার সময় এই অনিয়মের সন্ধান পান।

দুদক সূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কয়েদিদের অবৈধ ফোন সরবরাহ করা, নিম্নমানের খাবার প্রদান, ক্যান্টিনের খাবারের দাম বেশি রাখা এবং সঠিকভাবে চিকিত্সাসেবা প্রদান না করাসহ বেশ কিছু অভিযোগ অনুসন্ধানে এই অভিযান পরিচালনা করে দুদক। দুদক টিম অভিযোগ যাচাই ও সত্য উদঘাটনের জন্য সরেজমিনে কাশিমপুর কারাগারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে কারাগারে রান্নাঘর, ক্যান্টিন ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ খতিয়ে দেখেন।

এদিকে কাশিমপুর কারাগারে অভিযানকালে কতিপয় কারারক্ষীর যোগসাজশে কিছু কয়েদির মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুদকের টিম। স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারও করা হয়েছে। দুদক টিম কারা হাসপাতাল পরিদর্শনকালে দেখতে পায় সেখানে তাদের নিজস্ব কোনো ডাক্তার এবং নার্স নেই। একজন ডাক্তার প্রেষণে কর্মরত আছেন। হাসপাতালটি উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও স্বাস্হ্যবিধি সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে না।

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা টিমকে জানান, এই খাবার সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ করা হয়। তারা এখানে শুধু রান্না করেন।তবে খাবারের মান আগের তুলনায় সন্তোষজনক হলেও রান্নাঘরটি বেশ অপরিষ্কার। ক্যান্টিনের খাবার কার্ডের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়, তবে কার্ডের বিপরীতে টাকা জমার সময় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায় বলে দুদক টিম জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে কারাগারে রান্নাঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, খাবারের মানোন্নয়ন, প্রায় ২ হাজার কারাবন্দির জন্য পর্যাপ্ত ডাক্তার নার্সসহ সব আধুনিক চিকিত্সা সুবিধাসহ আলাদা ৫০-১০০ শঘ্যার হাসপাতাল নির্মাণ এবং কারাগারে কয়েদিদের মোবাইল ফোন সরবরাহের বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্হা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে এনফর্সমেন্ট টিম।

এদিকে রাস্তার নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম বগুড়ার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে। দুদকের বগুড়রা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বুধবার এই অভিযান চালায়। টিম সরেজমিনে সড়ক ও জনপথ কার্যালয় পরিদর্শন করে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সঙ্গে কথা বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংগ্রহ করেছে। তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবেন তারা। এছাড়া দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে (হটলাইন-১০৬) আসা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্হা গ্রহণপূর্বক কমিশনকে অবহিত করার জন্য আটটি দপ্তরে দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিট হতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৯ জনের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

ই-কমার্সের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

কোনো নিয়মই মানেন না নর্থ সাউথের ট্রাস্টিরা

অর্থ আত্মসাৎ: নর্থ সাউথের ৪ ট্রাস্টিকে পুলিশে দিলেন হাইকোর্ট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

যে কোনো শর্তে জামিনের আবেদন হাজী সেলিমের

অর্থ আত্মসাৎ মামলা: নর্থ সাউথের চার ট্রাস্টির জামিন শুনানি আজ

মানবতাবিরোধী অপরাধ: মৌলভীবাজারের ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

পি কে হালদারকে গ্রেফতারে ভারতকে ধন্যবাদ জানানো উচিত: হাইকোর্ট