কানাডায় শেষ হলো বাংলাদেশি শিল্পীদের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২২, ১৪:৩৮

কানাডায় বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের উপর ৩৮ জন শিল্পীর ৫০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শনী স্থানীয় বুধবার (১২ জানুয়ারি) শেষ হলো। তবে প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পকর্ম দেশ ফেরত পাঠানো নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর থেকে প্রায় দুই মাসব্যাপী কানাডায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বৃহত্তর টরোন্টোর আর্ট গ্যালারী অব মিসিসাগা, সাউথ এশিয়ান আর্ট গ্যালারি ও ঢাকার সামদানি আর্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত যৌথ প্রদর্শনী ‘লাইটিং দ্য ফায়ার অব ফ্রিডম: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ ও বাংলাদেশের ৩৮ জন প্রধান শিল্পীদের অরিজিনাল ছবি নিয়ে করা ‘আর্ট অব এ ইয়ং নেশান: বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হলো।

প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান। প্রদর্শনী দেখতে আসেন সপরিবারে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সংসদ সদস্য ও সংসদীয় সাংস্কৃতিক কমিটির দূত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা।

যাদের চিত্রকর্ম ছিলো, তারা হলেন- জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, মুর্তাজা বশীর, দেবদাস চক্রবর্তী, মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, মনিরুল ইসলাম, মাহমুদুল হক, কালীদাস কর্মকার, হামিদুজ্জামান খান, আবদুস শাকুর, বীরেন সোম, শহীদ কবীর, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, ফরিদা জামান, সৈয়দ ইকবাল, আলমগীর হক, মোহাম্মদ ইউনুস, তাজউদ্দিন আহমেদ, কামাল কবীর, কুহু প্লামনডন, রোকেয়া সুলতানা, ইফতেখার আহমেদ, দিলারা বেগম জলি, ভিনীতা করীম, কনক চাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, মাহমুদুর রহমান, তায়েবা বেগম লিপি, মাকসুদা ইকবাল নিপা, বিপাশা হায়েত, আনিসুজ্জামান আনিস, নাজিয়া আন্দালীব প্রিমা প্রমুখ। উল্লেখ্য, কোভিডের কারণে এই প্রদর্শনীর কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

প্রদর্শনীর সাফল্য সম্পর্কে ইত্তেফাকের এক প্রশ্নের জবাবে হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান বলেন, আলোচ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে কানাডার মানুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি তার ভালোবাসা সম্পর্কে জানতে পারবে।

প্রদর্শনীর একমাত্র মিডিয়া পার্টনার কানাডার এনআরবি টিভির সিইও সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম এব্যাপারে বলেন, কানাডার প্রধান আর্ট গ্যালারীতে বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের কর্মকাণ্ডের দুর্লভ ছবির প্রিন্ট ও ডিজিটাল গ্রাফিক বিখ্যাত বক্তৃতা ভিডিও সমন্বয়ে প্রদর্শনী হচ্ছে এবং দেশের ৩৮জন শিল্পীর শিল্পকর্ম টরন্টোবাসী দেখার সুযোগ পাচ্ছে। এটা অবশ্যই আমাদের জন্যে গর্ব ও আনন্দের।

গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্মগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এগুলো কি ঠিক মতো দেশে ফেরত যাবে? পাচার, পাইরেসি বা রেপ্লিকা না হবার বিষয় জানতে চাইলে হাই কমিশনার ড. খলিলুর রহমান এ প্রশ্নের জবাব বলেন- ‘নো কমেন্ট’।

মিডিয়া পার্টনার জনাব মিন্টু মনে করেন, যারা ঢাকা থেকে ছবি পাঠিয়েছেন, তাদের ছবিগুলো সময় মতো আবার ফেরত যাবে বলে আশা প্রকাশ করছি; আশংকা নয়।


এ ব্যাপারে অংশ গ্রহণকারী টরন্টোস্থ শিল্পী সৈয়দ ইকবালকে তাঁর ফেসবুকের ম্যাসেনজারে প্রশ্ন পাঠানো হলে, তিনি সাড়া দেননি।

মন্ট্রিয়লস্থ চিত্রশিল্পী রাকীব হাসান এই প্রতিবেদককে জানান, ‘দেশ থেকে আমাদের এতোজন শিল্পীর কাজ এখানে এসেছে তা আগে জানলে নিশ্চয়ই দেখতে যেতাম! আর এইসব ছবি নিয়ে আশঙ্কার যে প্রসঙ্গ আসছে তা আসলে আমার ভাবনার বাইরে! কারা এর আয়োজক, এটাই বড় প্রশ্ন! দেশের এতোজন বিখ্যাত শিল্পীর ছবি যেখানে আছে সেখানে নিশ্চয়ই সরকার বা বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কিম্বা দেশের অন্য কোনো না কেনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও সংগঠন জড়িত! আমি মনে করি না এ নিয়ে শঙ্কার কিছু থাকা উচিত! আমার ব্যক্তিগত ত্রিশ বছরের পেশার অভিজ্ঞতায় বলতে পারি, ছবি চুরি এবং হারানোর সম্ভাবনা অমূলক নয়! যদি আয়োজকরা কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে করে থাকে, এসব হতেই পারে! তার দায় কে নেবে, নিশ্চয়ই আয়োজকরা! অনেক সময় আয়োজকরা ছবি প্রদর্শনীর কথা বলে নিয়ে আর ফেরত দেন না। এটা পৃথিবীব্যাপী একটা চলমান দৃশ্যপট। এরকম যদি ঘটে থাকে তা আমাদের শিল্পাঙ্গনের জন্য বড় লজ্জা এবং একটি খারাপ উদাহরণ হবে।’

খোজ নিয়ে জানা যায়, বাংলাদেশ সরকারের এই প্রদর্শনীর সঙ্গে কোন ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। এ বিষয়ে শিল্পকলা একাডেমির মহা পরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ইত্তেফাককে জানান, এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিরও কোন সম্পৃক্ততা নেই। 

 

ইত্তেফাক/এমআর