মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২, ১১ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা

জনবলের অভাবে নষ্ট হচ্ছে ১৫৩ কোটি টাকার আমদানি মেশিনারিজ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:২০

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ৭৩ শতাংশ পদ শূন্য। এতে করে ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিকায়নের পরও কোনো সুফল মিলছে না। জনবলের অভাবে পড়ে আছে আমদানিকৃত মেশিনারিজ। সেগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাঁচামালেরও সংকট তীব্র। এসব কারণে দেশের বৃহত্তম এ কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

কারখানা সূত্র জানায়, আসাম-বেঙ্গল রেলপথকে ঘিরে ১৮৭০ সালে স্থাপিত হয় সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। ১১০ দশমিক ২৯ একর জায়গায় প্রতিষ্ঠিত কারখানাটিতে রয়েছে ২৮টি শপ (উপ-কারখানা)। কিন্তু ৮০ দশকে তৎকালীন বিএনপি সরকার অনেক রেলপথ সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয়। ঐ সময় রেলওয়ে কারখানা থেকে অনেক কর্মকর্তাকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে বিদায় করে দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে কারখানার দক্ষতা, উৎপাদন ক্ষমতা ও গুণগতমান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০৯ সালে কারখানাটি আধুনিকায়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়। ১৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এর কাজ শেষ হয় ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে।

প্রকল্পের আওতায় ব্রড ও মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগি এবং ওয়াগন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে ১৭টি ওয়ার্কশপ মেরামত করা হয়। ৪৩ ধরনের মেকানিক্যাল ও ১৩ ধরনের ইলেকট্রিক্যাল মেশিনারিজ প্রতিস্থাপন করা হয়। এছাড়া ডিপ টিউবওয়েল স্থাপনসহ একটি ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক নির্মাণ করা হয়। কিন্তু দক্ষ জনবল না থাকায় আধুনিকায়নের কোনো সুফলই মিলছে না। কারখানাটিতে বর্তমানে কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর মঞ্জুরিকৃত ২ হাজার ৮৩৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭০০ জন। সেখানে বিদ্যুৎ বিভাগে ৪১৩ জনের বিপরীতে কর্মরত ১৪৯ জন। অর্থাৎ, কারখানায় বর্তমানে ৭৩ শতাংশ অনুমোদিত পদ শূন্য আছে। এখন যে দক্ষ জনবল কারখানাটি চালু প্রায়ই তাদের মধ্যে কেউ না কেউ অবসরে যাচ্ছেন। আগামী দুই বছরের মধ্যে পুরাতন (দক্ষ) সব শ্রমিক অবসরে চলে যাবেন। এতে করে কারখানাটির উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

জনবল সংকটের কারণে বর্তমানে কারখানায় ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হচ্ছে না। প্রতিদিন তিন ইউনিট ক্যারেজ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও হচ্ছে দুই ইউনিট। ইউনিট বলতে বোঝানো হয় চার চাকা বিশিষ্ট একটি কোচকে। আট চাকার কোচগুলোকে দুটি ইউনিট ধরা হয়। এক সময় এ কারখানায় ক্যারেজ, ওয়াগন ও লোকোমোটিভের ১ হাজার ২০০ রকমের খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরি হলেও বর্তমানে তা ক্রয়নির্ভর হয়ে পড়েছে।

এদিকে বেশির ভাগ সময়ই মালামাল কেনার দরপত্রে জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা হয়। ফলে কোচ ও ওয়াগন মেরামতের প্রয়োজনীয় কাঁচামালের যোগান সময়মতো আসে না। অনেক সময় নিম্নমানের মালামালও চলে আসে। সেগুলো ঠিকঠাক করতে গিয়ে অতিরিক্ত জনবল, কর্মঘণ্টা ও বিদ্যুতের অপচয় হয়। 

কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) জয়দুল ইসলাম বলেন, কারখানার কর্মকর্তা-শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্তরিকতার কারণে জনবল সংকট সত্ত্বেও প্রতিদিন দুই ইউনিট ক্যারেজ মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে। জরুরি জনবল নিয়োগ না দেওয়া হলে কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

ইত্তেফাক/এমএএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

হাতের স্পর্শ ছাড়াই কলা খেয়ে ও দ্রুত মাস্ক পরে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাফিস

 যে কারণে খেতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি 

২০২৩ সালের জুনেই শেষ হবে চট্টগ্রাম- কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকাজ 

দীর্ঘ ১৮ বছরেও নির্মিত হয়নি ধীরাশ্রম কনটেইনার ডিপো

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সৈয়দপুরে কদর নেই বাঁশের তৈরি পণ্যের 

ট্রেন চালানো বন্ধের আলটিমেটাম রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের

পাঁচবিবিতে অনলাইনে টিকিটের দাবী যাত্রীদের

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে সৈয়দপুরের গণকবর