বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২, ১২ মাঘ ১৪২৮
দৈনিক ইত্তেফাক

কালো শুক্রবার! 

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২২, ০৯:৪৯

যুগে যুগে ’কালো’ বিশেষণটি শুধুমাত্র সেসব ঘটনা, বস্তুবিশেষ বা দিনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে, যেগুলি সাধারণভাবে বিপর্যয়মূলক বা খারাপ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে কালো শুক্রবার বা ব্লাক ফ্রাইডে বলতে এক আনন্দ উৎসবের দিন, অধিক ছাড়ে ইচ্ছে-খুশিমতো শপিংয়ের দিন। বিশেষ এ দিবসটি সাধারণত প্রতি বছরের নভেম্বর মাসের চতুর্থ বৃহস্পতিবার বড়দিনকে সামনে রেখে আয়োজিত হয়, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ছাড়ে পণ্য বিক্রি করে থাকে। মূলত এদিন থেকেই শুরু হয় বড়দিন উদযাপন মৌসুম। তবে মহাধুমধামে পালন করা এ দিবসকে কেন কালো দিবস বলা হয়? কালো শুক্রবার বলার পেছনে ঐতিহাসিকেরা কয়েকটি ঘটনার কথা বলেছেন।

১৮৬৯ সালের নভেম্বরের এক শুক্রবারে জে গোল্ড এবং জেমস ফিস্ক নামক দুই প্রতারক ব্যবসায়ী তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট গ্রান্ট প্রশাসনের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতার সুয়োগ নিয়েছিল। প্রেসিডেন্ট গ্রান্ট যখন তাদের কারসাজির কথা জানতে পারেন, তখন তিনি অর্থ কমিশনকে বাজারে স্বর্ণের বড় একটি চালান ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে সোনার বাজারে প্রায় আঠারো শতাংশ দরপতন ঘটে, যা আমেরিকার অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। কালো শুক্রবার ধারণাটি এ ঘটনা থেকে এসেছে বলে মনে করেন অনেক ঐতিহাসিক। আবার অনেক ঐতিহাসিক মত দিয়েছেন যে, ১৮৬৯ সালের দিকে আমেরিকায় ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা চলছিল এবং সেসময় মন্দা থেকে উৎতরণের উদ্দেশ্যে একটি বিশেষ দিবসের চিন্তা থেকে ব্যবসায়ীরা তাদের স্বার্থে এ দিবসটি চালু করেছে। কারো কারো মতে, এদিনে ব্যাপক ছাড়ে কেনাকাটার হুড়োহুড়িতে রাস্তাঘাটে ট্রাফিকের নাজেহাল অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার কারণে এ দিনের এরূপ নামকরণ হয়েছে। আবার ব্যবসায়ীদের হিসাবের খাতায় সাধারণত ক্ষতিকে লাল এবং লাভকে কালো কালিতে চিহ্নিত করা থাকে। কাজেই ব্যবসায়ীরা বিরাট লাভ দিয়ে দিনটি শুরু করেন বলে কালো দিবস হিসেবেও অভিহিত করতে পারেন বলে মত অনেকের। তবে ফ্যাক্টরি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স জার্নালে ১৯৫১ এবং ১৯৫২ সালের নভেম্বরে এই দিনটিকে ‘ব্লাক ফ্রাইডে’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কারণ কর্মচারীরা ‘থ্যাঙ্কসগিভিং ডে’ (যেদিন সৃষ্টিকর্তাকে নতুন ফসলের জন্যে ধন্যবাদ দেওয়া হয় বা এককথায় নবান্ন উৎসব)-এর পরদিন অসুস্হতার কথা বলে ছুটি নিত, যেন একটানা চার দিনের ছুটিতে থাকা যায়। ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা থাকা এ দিবসটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পায় একুশ শতকের শুরুর দিকে। আর্থিক লাভের বিষয়টিকে সামনে রেখে দেশে দেশে পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা দিনটিকে প্রচার করে আসছেন। ফলে আপাতদৃষ্টিতে গ্রাহকবান্ধব মনে হলেও কিছু দেশে দিবসটি ঘিরে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

বলা হয়ে থাকে, প্রতারক ব্যবসায়ীরা বছরজুড়ে অবিক্রিত থেকে যাওয়া পণ্যসামগ্রী অধিকতর ছাড়ে ’ব্লাক ফ্রাইডে স্পেশাল’ বলে ঠকাচ্ছেন গ্রাহকদের। তবে ১৯৩০ সালে ক্রিসমাস কেনাকাটার সঙ্গে থ্যাঙ্কসগিভিং ডে এবং ব্লাক ডে-র সম্পর্ক বিতর্কের জন্ম দেয়। খুচরা ব্যবসায়ীরা চাচ্ছিল বড়দিনকে ঘিরে তারা যেন বেশ কিছুদিন ধরে তাদের জমজমাট ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। কারণ নির্দিষ্ট এক দিনে মুদি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খুচরা দোকান থেকে মানুষ অনেক বাজার-সদাই করছিলেন না। এ কারণে ১৯৩৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ক্রিসমাসের কেনাকাটার মৌসুমকে দীর্ঘায়িত করার জন্য নভেম্বরের চতুর্থ বৃহস্পতিবারকে থ্যাঙ্কসগিভিং ডে হিসেবে ঘোষণা করেন। বেশির ভাগ মানুষ রাষ্ট্রপতির এ ঘোষণাকে গ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের একটি আইন দ্বারা দিবসটির বৈধতা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকে ঐতিহ্যগত তারিখে থ্যাঙ্কসগিভিং ডে উদযাপন করতে থাকেন এবং কেউ কেউ নতুন তারিখটিকে বিদ্রূপ করে ’ফ্রাঙ্কসগিভিং ডে’ হিসাবে উল্লেখ করেন।

ইত্তেফাক/কেকে

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

সিগারেটের বদলে বাঁধাকপি বিনিময়

অর্ধকোটিতে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ মি.লি. পানি!

ঘুড়ির সঙ্গে উড়ে গেলেন আকাশে

বার্লিনে গাঁজার টিকিট

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

ভাবলেন স্বর্ণ খন্ড, পরে জানলেন হাজার বছরের পুরনো উল্কাপিণ্ড

স্ত্রীর জন্মদিন ভুলে গেলেই স্বামীর জেল

বোতল জমা দিলেই মিলবে টাকা

খোঁজ মিললো ৭০ বছর আগের হারিয়ে যাওয়া আংটির