দেশে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ওমিক্রনের দাপটে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক দিনেই বাড়ল ৩০ শতাংশের বেশি। বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ৪ হাজার ৩৭৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃত্যু হয়েছে ছয় জনের। এক দিনে এর চেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছিল সর্বশেষ গত বছরের ২৬ আগস্ট, সেদিন ৪ হাজার ৬৯৮ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।
করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধে কঠোর অবস্থানে সরকার। নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। জারি করা হয়েছে ১১ দফা বিধিনিষেধ। কিন্তু মাঠের চিত্র পুরো উলটো। প্রায় সর্বত্র উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি। অলিগলি, চায়ের দোকান, কাঁচাবাজার, হোটেল-রেস্টুরেন্ট-সর্বত্রই মানুষের ভিড়। সবাইকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেকের মুখেই তা দেখা যায়নি। এমনকি লঞ্চ-বাস ও ট্রেনেও মাস্কবিহীন যাত্রী চলাচল করতে দেখা গেছে। রাজধানীর গণপরিবহনগুলোতেও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে গাদাগাদি করে তোলা হচ্ছে যাত্রীদের। সঙ্গে চালক-সহকারী এবং বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহার নিয়েও রয়েছে অনীহা।
এদিকে নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৪২ জনে। তাদের মধ্যে ২৮ হাজার ১২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনা ভাইরাসে।
২০ সপ্তাহ পর নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গত এক দিনে দেশে মোট ২৯ হাজার ৮৭১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে। বৃহস্পতিবার এই হার ১২ দশমিক ০৩ শতাংশ ছিল। সরকারি হিসাবে গত এক দিনে দেশে সেরে উঠেছেন ৩৫১ জন। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত ১৫ লাখ ৫২ হাজার ৩০৬ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
এখন পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্ত বিবেচনায় প্রতি ১০০ জনে সুস্থ হয়েছে ৯৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং মারা গেছেন ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে দুই জন পুরুষ এবং চার জন নারী। তাদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে এক জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে এক জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে এক জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এক জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এক জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এক জন।
