বিদায়ের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন সর্বোত্তম: মাহবুব তালুকদার

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০০:২৪

বিদায়ের আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে নিজেদের পাঁচ বছর মেয়াদের ‘সর্বোত্তম’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। গতকাল রবিবার ভোট শেষে নারায়ণগঞ্জ থেকে ফিরে নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে বরাবরের মতো লিখিত বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

রবিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে ভোট দেখতে যান নির্বাচন কমিশনার। বিকালে ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে-আমার কথা’ শীর্ষক বক্তব্যে মাহবুব তালুকদার বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমাদের কার্যকালে সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এটি ছিল আমার অনেক প্রত্যাশার স্থান। কারণ, আমি ইতিপূর্বে বলেছি, যার শেষ ভালো, তার সব ভালো। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আমি চারটি কেন্দ্রের ১৪টি বুথ পরিদর্শন করেছি। এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য কোনো সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, বিগত পাঁচ বছরে যতগুলো সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে, আমার বিবেচনায় আমাদের প্রথম কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সর্বোত্তম।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচন সম্পর্কে আমি কিছুটা বিস্মিত। একজন সংসদ সদস্য আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তাকে কোনো চিঠি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বরং বলা হয়েছে, তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেননি। আচরণবিধি ভঙ্গ করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ কিংবা শাস্তিহীন অপরাধের বিভাজন কোথায় আছে? তাহলে অন্য সংসদ সদস্যদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চিঠি দেওয়া হলো কেন? এসব বিষয় নির্বাচনে নিরপেক্ষতার লক্ষণ নয়।

তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর বিভিন্ন কারণে কিছুসংখ্যক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেও এ সম্পর্কে কোনো সংখ্যা জানা যায়নি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এসব বিষয়ে  কোনো তথ্য নেই। এমন কি, অন্যান্য নির্বাচনকালে সহিংসতায় নিহতদের কোনো তথ্য নেই। আমরা একসময়ে তপশিল ঘোষণা থেকে নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট, বিশেষত পোলিং এজেন্টদের কাউকে গ্রেফতার করতে বারণ করেছি। তবে ফৌজদারি মামলা বা তাত্ক্ষণিক আমলযোগ্য অপরাধ হলে ভিন্ন কথা। আমি নিজে সবসময় গায়েবি মামলার বিরোধিতা করেছি। নির্বাচনকালে গায়েবি মামলার হিড়িক পড়ে যায় কেন, তা এক প্রশ্ন। এই নির্বাচনকালেও পুরোনো মামলায় আটক অব্যাহত রয়েছে, যা দুঃখজনক।

ইত্তেফাক/এমআর