টাঙ্গাইল-৭ আসন ও চার পৌরসভায় নৌকা জয়ী

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৭:৫৮

টাঙ্গাইল-৭ সংসদীয় আসনের ভোটে ভোটারের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কেন্দ্র ছিল ফাঁকা। অন্যদিকে পাঁচ পৌরসভার ভোটে কিছু জায়গায় এজেন্ট বের করে দেওয়া, ভোট বর্জন ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রবিবার নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনের পাশাপাশি টাঙ্গাইল-৭, নোয়াখালী, নাটোরের বাগাতীপাড়া, নাটোর সদর, চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার ভোট অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে ইত্তেফাক প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যানুযায়ী টাঙ্গাইল-৭ আসনে জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৫৯ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় পার্টি-জাপার মো. জহিরুল ইসলাম জহির পেয়েছেন মাত্র ১৬ হাজার ৭৭৩ ভোট। অন্যদিকে নাটোর, বাঁশখালী, ঝিকরগাছা ও নোয়াখালী পৌরসভায় জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীতরা। নাটোরের বাগাতিপাড়ায় বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হন।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইল-৭ মির্জাপুর সংসদীয় শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হয়। তবে ভোটার উপস্থিতি কম থাকায় অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র ছিল ফাঁকা। কেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ দিনভর অলস সময় পার করেছেন। প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকগণ ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে নানা উদ্যোগ নিলেও ভোটারদের মধ্যে ছিল ভোট দেওয়ার প্রতি অনীহা। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুনবী চৌধুরী জানিয়েছেন, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হয়েছে। জাপার প্রার্থী মো. জহিরুর ইসলাম জহির এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ইভিএমের মাধ্যমে সূক্ষ্ম কারচুপি করে ভোট নেওয়ায় সন্ধ্যায় তারা ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খান আহমেদ শুভ (নৌকা), জাতীয় পার্টির মো. জহিরুল ইসলাম জহির (লাঙ্গল), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মো. গোলাম নওজব পাওয়ার চৌধুরী (হাতুড়ি), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম নুরু (মোটর গাড়ি) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির প্রার্থী রুপা রায় চৌধুরী (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগের শুভ ও জাপার জহিরের সঙ্গে।

নাটোর প্রতিনিধি জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টকে বের করে দেওয়ার অভিযোগের মধ্যদিয়ে নাটোর পৌরসভার ভোট সম্পন্ন হয়েছে। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের ৩০টি ভোটকেন্দ্রে ছয় জন মেয়র প্রার্থী, ১৩ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৬২ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। মেয়র পদে উমা চৌধুরী জলি নৌকা প্রতীকে ২০ হাজার ৫৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ এমদাদুল হক আল মামুন নারিকেল গাছ মার্কায় পেয়েছেন ১৩ হাজার ৭৮২ ভোট।

অন্যদিকে জেলার বাগাতিপাড়া পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি) জগ প্রতীকের শরিফুল ইসলাম লেনিন ২ হাজার ২৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী (স্বতন্ত্র প্রার্থী) মাইমুন সুলতান নারিকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ১৮৮ ভোট পেয়েছেন এবং আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী শাহিদা খাতুন পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৭ ভোট।

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ভোট বর্জনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে ১৪ হাজার ৩৪৫ ভোটে বিজয় লাভ করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেটকেট তোফাইল বিন হোসাইন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোবাইল প্রতীকে বিএনপি নেতা সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী পান ১ হাজার ৩৫৯ ভোট। তবে তিনি ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ করে সকালে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। 

নোয়াখালী প্রতিনিধি জানান, নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) বর্তমান মেয়র সহিদ উল্যাহ খান সোহেল দ্বিতীয় মেয়াদে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সোহেল পেয়েছেন ২৬ হাজার ৪০৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থক মো. শহিদুল ইসলাম কিরন পেয়েছেন ৮ হাজার ৬২৮ ভোট।

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন