কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) মেয়র পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আজ (৯ মার্চ)। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নগরীর ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হবে।
ভোটগ্রহণ শেষে কুমিল্লা জিলা স্কুল অডিটরিয়াম থেকে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইতিমধ্যে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নির্বাচন ঘিরে যেন কেন্দ্র দখল কিংবা পেশি শক্তির ব্যবহারসহ কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা সহিংসতা ঘটতে না পারে সেজন্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৩ হাজার সদস্যের তত্পরতা জোরদার করে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে পুরো নগরী। এখানে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ প্রত্যাশা করছেন সকল প্রার্থী ও নগরের সর্বস্তরের মানুষজন।
জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ জুন কুসিক নির্বাচনে বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাক্কু হেরে যান এবং মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। প্রায় দেড় বছরের মাথায় তার মৃত্যুতে পদটি শূন্য হলে উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি।
এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চার প্রার্থী। তারা হলেন—মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তাহিসন বাহার সূচনা (বাস)। তিনি নগর আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী এবং সদর আসনের এমপি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
অপর তিন জন হলেন—সাবেক বিএনপি নেতা ও সাবেক মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি), স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া), মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য নূর-উর রহমান মাহমুদ তানিম (হাতি)।
গতকাল শুক্রবার সকালে কুমিল্লা জিলা স্কুল অডিটরিয়ামে পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরকে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে। সকালে কুমিল্লা জিলা স্কুলের অডিটরিয়াম থেকে ইভিএম ও নির্বাচনি সরঞ্জামাদি নগরীর সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারসহ কর্মকর্তাদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, ভোট হবে শঙ্কামুক্ত ও উত্সবমুখর পরিবেশে। এতে কেউ কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেই।
কুমিল্লা পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান জানান, ভোটের দিন প্রতি কেন্দ্রে পাঁচ জন করে অস্ত্রধারী পুলিশ, অস্ত্রধারী দুই জনসহ ১২ জন আনসার নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩ সহস্রাধিক সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৭টি ওয়ার্ডে পুলিশের ২৭টি মোবাইল টিম, ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্সের টিম থাকবে এবং রিজার্ভ হিসেবে থাকবে দুইটি স্ট্রাইকিং ফোর্সের টিম। এছাড়া কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স, বিজিবির টহল টিম, রিজার্ভ ফোর্স ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে কাজ করবে।
সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরহাদ হোসেন জানান, কোনো কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে অ্যাকশনে যাওয়ার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। প্রসঙ্গত: কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৫৮ জন, এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ২৪ হাজার ২৭৪ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৮ হাজার ১৮২ জন। হিজড়া ভোটার দুই জন।

