"স্মৃতিতে শেখ কামাল ও পঁচাত্তর পরবর্তী ঘটনা২" বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ১৩:০৪

সুইডেন প্রবাসী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সুইডিশ রাজনীতিবিদ মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু তার রচিত "স্মৃতিতে শেখ কামাল ও পঁচাত্তর পরবর্তী ঘটনা২" বইটির মোড়ক উন্মোচন করেছেন। 

সম্প্রতি জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এই মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়ার নেতা ইসমত কাদির গামা, জাতীয় সংসদে বিমান ও পর্যটন কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ব্রাম্মনবাড়ীয়া জেলা আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট রবিউল আলম মুক্তাদির চৌধুরী এম পি, সাবেক রাষ্ট্রদূত মমতাজ হোসেন, শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ভারতে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধা ফুটবল দলের খেলোয়াড়, ঢাকার গেন্ডারিয়ার সুপরিচিত মুখ সাইদুর রহমান প্যাটেল, শেখ কামালের সহপাঠী ও একনিষ্ট বন্ধু মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাদল সাবেক সচিব খন্দকার শওকত হোসেন জুলিয়াসl  অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন মুক্তিযুদ্ধ সংহতি পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা কাওসার। 

বইটির লেখক মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু বলেন, আমি সুইডেনে মূলধারার রাজনীতির সাথে দীর্ঘ ২৫ বৎসর থেকে সক্রিয়। বর্তমানে সুইডিশ লেফট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটির ১১ সদস্য বিশিষ্ট মনোনয়ন বোর্ডের ইলেক্টেড মেম্বার, স্টকহল্ম হেঁসেলবি ভেলেংবি লোকাল কাউন্সিলে লেফট পার্টির গ্ৰুপ লিডার ও স্টকহল্ম আপিল কোর্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের জুরি। এছাড়া আমি দীর্ঘ ২৫ বৎসর থেকে সুইডেনের পোস্ট ট্রেড ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্রাঞ্চে ইলেক্টেড প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছি। ২০২১ সালের আগস্টে ট্রেডইউনিয়ন রাজনীতি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি। 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র আমার ছাত্র রাজনীতির কমান্ডার শেখ কামাল ভাইকে নিয়ে আমি এই বইটি লিখেছি। সেই সময় অনেক কাছে থেকে দেখা শেখ কামাল ভাইয়ের কিছু কিছু ঘটনা নিয়েই মূলত আমার এই বই লেখা। তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা। সেই সূত্রে কামাল ভাইকে ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের দেখা শুনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ নুরুল ইসলাম নুরু ভাইয়ের নেতৃত্বে রউফ শিকদার, মোহাম্মদ  ইউনুস ও আমি কামাল ভাইকে অনেক কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি। ৭২-৭৭ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত আমার তৎকালীন ছাত্র রাজনীতির বিভিন্ন ঘটনা আমি আমার এই বইতে তুলে ধরেছি। ঐসময় এসকল অনেক কিছুর সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শেখ কামাল ভাই ও ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নুরুল ইসলাম ভাইয়ের সহায়তা, অনুপ্রেরণা, উৎসাহ সব সময় আমার পেছনে ছিল। 

লেখক মহিবুল বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করা হলে ঢাকায় আমাদের গোপনীয় রাজনৈতিক আন্দোলন ও সাথীদের সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের কথা আমি এখানে লিখেছি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা কোনো দলীয় শ্লোগান নয়। এই দুইটি নাম বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক। দল মত নির্বিশেষে এই দুইটি নামকে ইতিহাসে পাতায় চিরস্মরণীয় করে রাখতে হবে। মহিবুল বলেন, মাত্র ২০ বৎসর বয়সে জেনারেল জিয়ার সামরিক আইনে গ্রেফতার ও নির্যাতনের ভয়ে ১৮ জানুয়ারি ১৯৭৭ আমি বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাংলাদেশের রাজনীতির সাথে আমার এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। ২৫ বৎসর থেকে সুইডেনের মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হলেও আমার জন্মভূমি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন আমাকে আনন্দিত করে।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত সুইডিশ রাজনীতিবিদ মহিবুল ইজদানী খান ডাবলু  বলেন, আমি মনে করি বর্তমানে সুইডেনের সাথে বাংলাদেশের পারস্পারিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো। তবে এই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা উচিত। যেমন বাংলাদেশের অনেক দ্রব্য আছে যা সুইডেনে চাহিদা আছে ঠিক তেমনি সুইডেনে নির্মিত উচ্চমানের অনেক যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম আছে যা বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব। আমি সুইডেন বাংলাদেশ সম্পর্কের দিন দিন আরও উন্নতি কামনা করি।