শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

পর্তুগালে পাথর আর পাহাড়ের রাজ্যে একদিন

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৯:৪৩

ছুটির দিনে সেরা দা এস্ট্রেলায় ঘুরতে যাব, পরিকল্পনা ছিল দীর্ঘদিনের। কারণ পর্তুগালের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে টরি অন্যতম। আমার প্রাণের শহর কাশতেলো ব্র্যাঙ্কো থেকে মাত্র ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটের দূরত্ব। রাজধানী লিসবন কিংবা বন্দর নগরী পর্তু থেকে বাস অথবা ট্রেনে যেতে সময় লাগে ৪ ঘণ্টার মতো।

১ জানুয়ারি ২০২২ পর্তুগালসহ গোটা ইউরোপে ছুটি। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রহর এবার বোধহয় শেষ হবে। তাই আর দেরি না করে সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু জল খাবার খেয়েই রওয়ানা দিলাম।

ট্রেনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বললাম সেরা দা এস্ত্রেলা যাবো। অপর পাশ থেকে ভদ্রলোক জানাল, ট্রেনটির শেষ গন্তব্য কোভিলা শহরে গিয়ে আমাকে নামতে হবে। তারপর ট্যাক্সিতে করে পাহাড়ের মগডালে গেলেই দেখা মিলবে টরির। দেরি না করে টিকিট নিয়ে ট্রেনের ভিতরে গিয়ে বসলাম। বাহিরে প্রচন্ড ঠাণ্ডা, ট্রেনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ছিল বিধায় ট্রেনের ভেতরে তাপমাত্রা স্বাভাবিক অনুভূত হচ্ছিলো।

লেখক মনির হোসেন।

যথাসময়ে ট্রেনটি ছাড়লো। পুরো ট্রেনটিতে ছিলাম মাত্র তিনজন যাত্রী। চোখ যেদিকেই যায় চারিদিকে বড় বড় গ্রানাইট পাথর দেখে চোখের সামনে ভেসে উঠলো জাফলংয়ের সাদা পাথর কিংবা শিলংয়ের চুনাপাথরের দৃশ্য। দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ছুটে চলেছে ট্রেন। তাঁর মধ্যে টিকিট মাষ্টার এসে টিকিট দেখে কিছু আড্ডা এবং গল্প। পর্তুগিজরা অত্যন্ত মিশুক জাতি।

১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ট্রেনে ভ্রমণ করার পর অবশেষে ছোট্ট শহর কোভিলাতে এসে পৌঁছলাম। মূলত ‘সেরা দা এস্ত্রেলায়’ যে স্থানটি দেখার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসে, সেটি পাহাড়টির সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে এবং নীচে অবস্থিত কোভিলা শহরটি।

কোভিলা শহর থেকে সেরা দা এস্ট্রেলার (নিচ থেকে উপরের) দূরত্ব প্রায় ২২ কিলোমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যার উচ্চতা প্রায় ১ হাজার ৯৯৩ মিটার। এটি পর্তুগালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ। (চলবে)

লেখক: পর্তুগাল প্রবাসী

ইত্তেফাক/এমআর

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বাংলাদেশিদের জন্য খুলছে সিঙ্গাপুরের আকাশ

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ‘কাশতেলো ব্র্যাঙ্কো’