বিপিএল থিতু হবে কবে

ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে দলগুলোর অংশগ্রহণ 

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ১১:১১

ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় আসর এখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ফ্র্যাঞ্চাইজ ভিত্তিক এই টি-২০ লিগ জায়গা করে নিয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের হৃদয়ে। কিন্তু পথচলার প্রায় এক দশক কাটিয়ে ফেললেও বিপিএল পায়নি স্থায়ী কাঠামো। প্রতি আসরেই পরিবর্তনের মিছিল নিয়ে হাজির হয় টুর্নামেন্টটি। ফ্র্যাঞ্চাইজি তথা মালিকানা বদল, দলের নাম বদল যেন নিত্যকার কর্ম হয়ে গেছে।

অনেক সম্ভাবনা-প্রত্যাশা নিয়ে আসছে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা, আবার এক আসর পরই হারিয়ে যাচ্ছে। বিসিবিকে খুঁজতে হচ্ছে নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি। এসব কাণ্ডই ক্রিকেট বিশ্বের বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজগুলোর সঙ্গে বিপিএলের বড় পার্থক্য গড়ে দিচ্ছে। তবে নিয়মিত না হলেও বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রয়েছে বিপিএলে।

নানাবিধ সীমাবদ্ধতাকে সঙ্গী করে এক দিন পরই পর্দা উঠছে টুর্নামেন্টের অষ্টম আসরের।

এবারও দলগুলোর সঙ্গে মাত্র এক আসরের জন্য চুক্তি করেছে বিসিবি। যার ফলে বসুন্ধরা গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ ও জেমকন গ্রুপের মতো বড় ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দল নেই এই আসরে। প্রসঙ্গত সবার মনেই প্রশ্ন জাগছে কবে থিতু হবে বিপিএল? কিছুদিন আগেও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কর্তারা বলেছেন, আগামী আসর থেকেই দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি করা হবে। তখন স্থায়ী রূপ পাবে টুর্নামেন্টটি।

বিপিএলের গত সাত আসরের ছয়টি হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজ পদ্ধতিতে। সপ্তম আসরটি স্পন্সর নিয়ে আয়োজন করেছিল বিসিবি। এবারসহ ফ্র্যাঞ্চাইজিদের অংশগ্রহণে বিপিএল হচ্ছে সাত বার। এই সাত আসরেই সবচেয়ে বেশিবার পরিবর্তন হয়েছে সিলেট বিভাগের দলটির নাম ও মালিকানা। সর্বোচ্চ চার বার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে দলটি। সিলেট রয়্যালস, সিলেট সুপার স্টারস, সিলেট সিক্সার্সের পর এবার সিলেট সানরাইজার্স নামে অংশ নিচ্ছে সিলেটের দল।

তিনবার করে নাম ও মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় দলের। রাজশাহীর দলটির পরিবর্তন হয়েছে দুই বার। রংপুর রাইডার্স নামটি বহাল থাকলেও দলটির মালিকানা এক বার পরিবর্তন হয়েছে। প্রথম অংশগ্রহণে রংপুরের ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল ফ্লোরা লিমিটেড। পরে বসুন্ধরা গ্রুপ দলটির স্বত্ব কিনে নেয়। বিপিএলের ইতিহাসে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়নি একমাত্র কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স।

বিপিএলের প্রতি আসরে অংশগ্রহণের দিক থেকেও বিভাগীয় দলগুলোর ধারাবাহিকতা ছিল না। ২০১২ সালে প্রথম আসরে ছিল ছয়টি দল। ২০১৩ সালে দ্বিতীয় আসরে সাত দল অংশ নেয়। নতুন করে যুক্ত হয় রংপুর রাইডার্স। ফিক্সিং কাণ্ডে ২০১৪ সালে টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ায়নি। নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বিসিবি ২০১৫ সালে নতুন করে বিপিএলকে ফিরিয়ে আনে। তৃতীয় আসরে দল ছিল ছয়টি। যেখানে সবদলের মালিকানাই নতুন ছিল। তবে অংশ নিতে পারেনি রাজশাহী ও খুলনার দল। ২০১৬ সালে চতুর্থ আসরে আবারও সাত দলের বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে রাজশাহী, খুলনার দল যুক্ত হলেও বাদ পড়ে সিলেট বিভাগের দল। ২০১৭ সালে পঞ্চম আসরেও দলের সংখ্যা একই ছিল। কিন্তু সিলেট ফিরে আসলেও অংশ নিতে পারেনি বরিশালের দল।

বিপিএলের আসর দেখা যায়নি ২০১৮ সালে। তবে ২০১৯ সালে ষষ্ঠ আসরে কিছুটা ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে বিপিএল। আগের আসরের মতোই বরিশাল ছাড়া সাতটি দল ছিল এবং দলের মালিকানা, দলের নাম অপরিবর্তিত ছিল। সপ্তম আসর হয়েছিল ২০২০ সালে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ আসর বঙ্গবন্ধু বিপিএল অনুষ্ঠিত হয়, অবশ্য সেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজিরা অংশ নেয়নি। স্পন্সর নিয়ে সাত দল গঠন হয়, যেখানে ছিল না বরিশাল। আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু হতে চলা অষ্টম আসরে দল কমলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ফিরেছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ছয় দল, এবারও নেই রাজশাহী-রংপুরের দল।

বিপিএলের অস্হিতিশীল রূপের পেছনে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি না করাকেই দায়ী করছেন টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের সদস্য সচিব সিরাজউদ্দিন আলমগীর। ফ্র্যাঞ্চাইজ মডেল বাস্তবায়ন না হওয়াকে দুষছেন বিসিবির এই সাবেক পরিচালক।

গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা যখন শুরু করেছিলাম, তখন শুরু করাটাই ছিল একটা চ্যালেঞ্জ। প্রথম বছরে সেটা মোকাবিলা করেছিলাম। তখন করপোরেট হাউজগুলো কিন্তু সেভাবে আগ্রহী হয়ে উঠেনি। বিসিবি কিন্তু পরে বাংলাদেশের সেরা করপোরেট হাউজগুলোকে বিপিএলে নিয়ে এসেছিল। বসুন্ধরা, বেক্সিমকো, জেমকন ছিল। ভালো শুরুও হয়েছিল। আমার মনে হয় এরপর ফ্র্যাঞ্চাইজিদের দীর্ঘমেয়াদে মালিকানা না দেওয়া, আমি জানি না বোর্ডের কী পরিকল্পনা ছিল, ঐ জায়গাতেই বিপিএলটা পিছিয়ে গেছে। দীর্ঘমেয়াদে চুক্তি না হওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজিরা হয়তো আগ্রহ হারিয়েছে কিছুটা। এটা বড় দুর্বলতার জায়গা আমার মনে হয়।’

ইত্তেফাক/এসজেড