ইরিগেশনের জন্য গ্রামগঞ্জে শ্যালো মেশিনে পানি তোলা হচ্ছে। আর বাসাবাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপন বর্তমান সময়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি চাহিদা। শহরাঞ্চলে গভীর নলকূপ থাকলেও এখন গ্রামাঞ্চলের সর্বত্র স্থাপিত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলে বোরো আবাদে সেচের জন্য মাটির উপরিস্থ পানি ব্যবহার ছিল সর্বত্র। এখন শ্যালো টিউবওয়েলের বদৌলতে মাটির নিচের পানি ব্যবহারে কৃষকদের আগ্রহ লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারিভাবে গভীর নলকূপের বরাদ্দ বেশি থাকায় বাসাবাড়ির কাজে গভীর নলকূপ স্থাপনের চাহিদা বেড়েই চলেছে। আয়রন আর আর্সেনিকের অজুহাত দেখিয়ে অগভীর নলকূপ বসাতে কেউই রাজি নন। ফলে গ্রামগঞ্জেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আরো নিচের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি আগামী ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় ধরনের হুমকি।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর এক তথ্যে বলা হয়েছে, ভূগর্ভস্থ উত্স থেকে সেচের ৮০ শতাংশ পানি সংগ্রহ করা হয়। বাকি ২০ শতাংশ আসে মাটির ওপর থেকে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পানিসম্পদ প্রকৌশল বিভাগের এক তথ্যে জানা যায়, প্রতি বছর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২-৩ মিটার করে নিচে নামছে। এ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা না হলে পাঁচ বছর পরে প্রতি বছর এ পানি স্তর নামবে ১০ মিটার করে।
বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সুপেয় পানির অভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। সেখানে গভীর নলকূপ ছাড়া বিকল্প চিন্তা করা কঠিন। মাটির ৭০০-৮০০ ফুট নিচে থেকে পানি তোলা হলে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টি কেউ আমলেই নিচ্ছেন না।
হাওরাঞ্চল ছাড়া কৃষিকাজে নদী, ছড়া, জলাশয় থেকে ইরিগেশনের জন্য পরিকল্পিত উপায়ে পানি ব্যবহার ছিল একটি প্রচলিত ব্যবস্থা। এখন সেটি পরিবর্তন হচ্ছে। চাষাবাদ হবে তাই মাটির নিচের পানি উত্তোলনে নলকূপ প্রয়োজন। মৌলভীবাজারের কৃষি অধ্যুষিত কমলগঞ্জ উপজেলা। এক টুকরো উপজেলায় চাষাবাদে মাটির নিচের পানির ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে ভবিষ্যত্ শঙ্কাটা বাড়বে বৈ কমবে না। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সার্ভে অনুযায়ী উপজেলার দু-একটি স্থানে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। আর কয়েকটি স্থানে আয়রনের প্রকোপ রয়েছে। তাই গভীর নলকূপ স্থাপন বাড়ছে। এ পর্যন্ত উপজেলায় একটি গভীর নলকূপ এবং ১৪৭টি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। বোরো আবাদে নলকূপসমূহ ব্যবহূত হচ্ছে। অথচ ধলাই, লাঘাটা, খিরনী নদী, ছাইয়াখালি ও কেওলার হাওর এবং অসংখ্য পাহাড়ি ছড়া ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে। চাষাবাদে সেচের জন্য এসব হাওর, নদী ও ছড়া মাটির উপরিস্থ পানি ব্যবহারের উত্স থাকলেও পরিকল্পিত উপায়ে মাটির উপরিস্থ প্রাকৃতিক এসব পানি ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে।
পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এজন্য সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তবে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে চাষাবাদে মাটির উপরি স্তরের পানি ব্যবহারেও কোনো বিকল্প নেই। পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হলে নদী, খাল, পুকুর খনন ও সংস্কারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ, সেচের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব। গ্রামাঞ্চলের বাসাবাড়িতেও সমীক্ষা মোতাবেক নলকূপ স্থাপন করা গেলে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
মৌলভীবাজার
