রাস্তার মাঝের লেনে ট্রাক চলাচল বাধ্যতামূলক করা হোক

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৮

সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। কেউ যেন কিছুই করতে পারছে না। এদিকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে সবাই যার যার মতো করেই চলছে। কিছুদিন আগে একটি সড়ক দুর্্ঘটনায় দুটি শিশু মারা যায়। একটি পত্রিকা লিখেছিল ট্রাক থামিয়ে দিলেই বেঁচে যেতে পারত শিশু দুটি। কী অবস্থায় আমরা চলাফেরা করছি! সড়ক দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রতিদিনই কথা হচ্ছে। সমাধানের পথের নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দিন শেষে বিশজন, পনেরোজন, দশজন করে লাশ হয়ে যাচ্ছে! পরিত্রাণের কোনো উপায় কি আসলেই নেই?

রাস্তায় যেমন অসচেতন মানুষ বাড়ছে তেমনি উগ্র হচ্ছে চালক-হেলপাররাও। কোনটাই কিন্তু কম নয়। বেশি মানুষের দেশে সড়কে নিরাপত্তা আনতে সবার আগে নিঃসন্দেহে গাড়ির গতির দিকেই নজর দিতে হবে এবং তার সঙ্গে নজর দিতে হবে চলাচলের সাবধানতার দিকে।

সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে সবার সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এলাকাভিত্তিক রাস্তাগুলোর জন্য আলাদা আলাদা কিছু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ট্রাক চলাচলের জন্য আইন করে একটি লেন ব্যবহারের পদ্ধতি চালু করা হোক। কোনো অবস্থাতেই ট্রাক যেন মাঝের লেন ছেড়ে পাশের লেনে না আসতে পারে। ট্রাকের ক্ষেত্রে বিশেষ করে ড্রাম ট্রাকের ক্ষেত্রে ওভারটেক আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় আনা হোক। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এ ব্যাপারে ভালো ভূমিকা রাখতে পারে। ট্রাক বা কোনো যানবাহন যাতে স্কুল ও হাসপাতাল এলাকার রাস্তায় দ্রুত গতিতে চালাতে না পারে এ বিষয়ে পোস্টারিং, চিহ্ন অঙ্কন করে দেওয়া, কেউ দ্রুতগতিতে চালালে তাকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করার বিষয়ে নজর দিতে হবে। হাইওয়েতে ছোট গাড়ি চলচলের ব্যাপারে হতে হবে আরো কঠোর। গাজীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে লেগুনা বন্ধের পর দুর্ঘটনা কমেছে অনেক। প্রশাসনের এমন উদ্যোগের পাশাপাশি ট্রাকের এক লেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিনীত নিবেদন রাখছি।

সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে আইনের সঠিক তদারকি থাকতেই হবে। এর সঙ্গে জনসাধারণের জায়গা থেকে প্রত্যেকেরই দায়িত্ব অনিয়মগুলো তুলে ধরে সে বিষয়ে কাজ করা। কেউ বেশি গতিতে গাড়ি চালালেই তাকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করতে হবে সামাজিক সংগঠনগুলোকেই।

সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আহাজারি বাড়তেই থাকবে!

গাজীপুর