ডুরান্ড লাইন নিয়ে তালেবানের সতর্কবার্তা পাকিস্তানের জন্য কতটুকু হুমকি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২২, ১৮:৫৭

পাকিস্তান ২০১৭ সাল থেকে ডুরান্ড লাইন বরাবর কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করে। আফগানিস্তানের তৎকালীন আশরাফ গনি সরকার ওই বেড়া নির্মাণের বিরোধিতা করলেও কখনও পাকিস্তানকে এ কাজে বাধা দেয়নি। ২০২০ সালের আগস্ট মাসে গনি সরকারের পতন পর্যন্ত বেড়া নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বিভক্তকারী রেখাকে বলা হয় ডুরান্ড লাইন। ১৮৯৩ সালে তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আফগানিস্তানের তৎকালীন শাসক আব্দুর রহমান খানের সঙ্গে এক চুক্তি সই করে।ওই চুক্তিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বর্তমান বিভক্তরেখা নির্ধারণ করা হয় যার নাম হয় ডুরান্ড লাইন। কিন্তু ওই চুক্তির কোনো সময়সীমা ছিল না বলে এই লাইনটি এখন পর্যন্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার স্থায়ী সীমান্ত হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি। পাকিস্তান এটিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে পরিণত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করলেও দৃশ্যত আফগানিস্তানের পক্ষে এই উদ্যোগ মেনে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না। 

কিন্তু ২০১৬ সালে সেই অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চল ও পাকিস্তানের বেলুচিস্তানের মরুভূমি বরাবর সীমান্তে বসতে থাকে কাঁটাতার ও লোহার বেড়া। বেশ কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক ‘সীমান্ত পারাপারের স্থান’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর বদলে সীমান্ত দিয়ে চলাচলের জন্য ১৬টি স্থানে আনুষ্ঠানিক তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে। যদিও বিশাল ওই দুর্গম সীমান্তের পুরোটাজুড়ে বেড়া তৈরির কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। এটা হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সরকার।

কিছুদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশী ইসলামাবাদের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দেশ তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুত এবং এক তরফাভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে তাদের ২,৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ অব্যাহত রাখবে।

পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিক কাঁটাতার বেড়া নির্মাণে পাকিস্তানকে বাধা দিতে তালিবান সীমান্ত বাহিনীর সাম্প্রতিক প্রয়াসের প্রতি সাড়া দিয়ে এই মন্তব্য করেন। সাম্প্রতিক এই ঘটনা ঘটে দৃশ্যত এই সপ্তাহান্তে যখন আফগান পক্ষ থেকে বেড়ার কিছু অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।

আবার তালিবান প্রতিরক্ষা দপ্তরের একজন মুখপাত্র রবিবার বেড়া নির্মাণ কর্মসূচির সমালোচনা করেন।তিনি বলেন, "পাকিস্তানের ডুরান্ড লাইন বরাবর কাঁটাতার নির্মাণের এবং লাইন বরাবর উপজাতীয়দের বিচ্ছিন্ন করার কোনো অধিকার নেই"।

যদিও আফগান সরকার এখনো ডুরান্ড লাইনকে স্বীকৃতি দেয়নি। তারা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমের কিছু অংশকে নিজেদের বলে দাবি করে। ফলে এই বেড়া নির্মাণের জন্য আফগান সরকার অখুশি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোয়েদ ইউসুফ বলেছেন, এই বেড়া দুই দেশের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে।

ইত্তেফাক/এএইচপি